ছোটদের নামাজ শিক্ষা
ইসলামের পঁাচটি স্তম্ভের অন্যতম হল নামাজ। তাছাড়া নামাযের আত্মিক, শারীরিক, সামাজিক ও পরকালিন অনেক উপকারিতা ও ফজিলত রয়েছে। আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের বাস্তবরূপ হচ্ছে নামায।

ইসলামের পঁাচটি স্তম্ভের অন্যতম হল নামাজ। তাছাড়া নামাযের আত্মিক, শারীরিক, সামাজিক ও পরকালিন অনেক উপকারিতা ও ফজিলত রয়েছে। আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের বাস্তবরূপ হচ্ছে নামায।
♦দৈনিক নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচবার নামায আদায় করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻴْﺘُﻢُ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﻓَﭑﺫْﻛُﺮُﻭﺍ۟ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻗِﻴَٰﻤًﺎ ﻭَﻗُﻌُﻮﺩًﺍ ﻭَﻋَﻠَﻰٰ ﺟُﻨُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﭐﻃْﻤَﺄْﻧَﻨﺘُﻢْ ﻓَﺄَﻗِﻴﻤُﻮﺍ۟ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻛِﺘَٰﺒًﺎ ﻣَّﻮْﻗُﻮﺗًﺎ
অতঃপর যখন তোমরা সলাত পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে তখন সলাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয় সলাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয। (সূরা নিসাঃ১০৩)
"পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসমূহ"
★ ফজর নামাযঃ
♦ফজর নামাযের সময়ঃ সুবহ সাদিক থেকে সূর্য উদয়ের পূর্ব পর্যন্ত।
♦ফজর নামাযের রাকাআত সংখ্যাঃ ফজরের নামায মোট ৪ রাকাআত। প্রথম ২দুই রাকা’আত সুন্নাতে মুআক্বাদা ও শেষে ২দুই রাকা’আত ফরজ।
১. ফজরের পূর্বে দু’রাকা’আত সংক্ষিপ্তভাবে নামায আদায় করা সুন্নাত।এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ
ﺍﻥ ﺣﻔﺼﺔ ﺍﻡ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ , ﺍﺧﺒﺮﺗﻪ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﺍﺫﺍ ﺳﻜﺖ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥ ﻣﻦ ﺍﻻﺫﺍﻥ ﻟﺼﻼﺓ ﺍﻟﺼﺒﺢ , ﻭﺑﺪﺍ ﺍﻟﺼﺒﺢ , ﺭﻛﻊ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﺧﻔﻴﻔﺘﻴﻦ ﻗﺒﻞ ﺍﻥ ﺗﻘﺎﻡ ﺍﻟﺼﻼﺓ .
“উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন মুয়াযযিন ফজরের আযান দিতো এবং সকাল হওয়া আরম্ভ হতো তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান এবং ইক্বামতের মধ্যে সংক্ষিপ্ত দু’রাকা’আত নামায আদায় করতেন। (আল বুখারী, হাঃ ১৬৯,মুসলিম)
باب فِي تَخْفِيفِهِمَا حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّفُ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الْفَجْرِ حَتَّى إِنِّي لأَقُولُ هَلْ قَرَأَ فِيهِمَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ
আহমাদ ইবন আবু শুয়ায়ব (রহঃ) ........... আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (সা) ফজরের ফরয নামাযের পূর্বের দুই রাকাত নামায এত সংক্ষেপ করতেন যে, আমি ধারনা করতাম, তিনি কি তাতে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন? (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
ফজরের দু’রাকাআত সুন্নাত নামাযকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব গুরুত্ব দিতেন এবং তা কখনো ত্যাগ করতেন না। এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ
ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋَﻠَﻰ ﺷَﻲْﺀٍ ﻣِﻦْ ﺍﻟﻨَّﻮَﺍﻓِﻞِ ﺃَﺷَﺪَّ ﻣِﻨْﻪُ ﺗَﻌَﺎﻫُﺪًﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻲْ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮِ
আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল সালাতকে ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন না। (বুখারীঃ ১১৬৯)
ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺭَﻛْﻌَﺘَﺎﻥِ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﺪَﻋُﻬُﻤَﺎ ﺳِﺮًّﺍ ﻭَﻻَ ﻋَﻼَﻧِﻴَﺔً ﺭَﻛْﻌَﺘَﺎﻥِ ﻗَﺒْﻞَ ﺻَﻼَﺓِ ﺍﻟﺼُّﺒْﺢِ ،
আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দু’রাক‘আত সালাত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন অবস্থাতেই ছাড়তেন না। তাহলো ফাজরের সালাতের পূর্বের দু’রাক‘আত। (বুখারী, ৫৯২)
باب فِي تَخْفِيفِهِمَا حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ الْمَدَنِيَّ - عَنِ ابْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ سِيْلاَنَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَدَعُوهُمَا وَإِنْ طَرَدَتْكُمُ الْخَيْلُ " .
মুসাদ্দাদ (রহঃ) ........ আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা কোন সময় ঐ দুই রাকাত নামায (ফজরের সুন্নাত) ত্যাগ করবেনা, ঘোড়ায় তোমাদের পিষে ফেললেও।
باب رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ عَلَى شَىْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مُعَاهَدَةً مِنْهُ عَلَى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ .
মুসাদ্দাদ (রহঃ) .......... আয়শা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ফজরের নামাযের পূর্বে দুই রাকাত নামায আদায়ের ব্যপারে যে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা পালন করেছেন তা অন্য কোন নামাযের (সুন্নাত ) ব্যাপারে পালন করেন নি। (বুখারি, মুসলিম)।
২. ফজরের সুন্নাতে সুরা পাঠ করাঃ এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে-
ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ , ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺮﺍ ﻓﻲ ﺭﻛﻌﺘﻲ ﺍﻟﻔﺠﺮ : ﻗُﻞ ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮﻭﻥ , ﻭﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ .
“হরত আবু হুতাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’রাকা’আত নামাযে সুরা কাফিরুন ও সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করতেন। (মুসলিম, হাঃ ৭২৬)
৩. ফজরের নামাযের কিরা’আত দীর্ঘ করা সুন্নাত। ফজরের দু’রাকাআত ফরজ নামাযে কিরাআত ৬০ হতে ১০০ আয়াত পর্যন্ত লম্বা করা সুন্নাত।এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ
ﻋﻦ ﺳﻌﻴﺎﺭ ﻗﺎﻝ : ﺳﻤﻌﺖ ﺍﺑﺎ ﺑﺮﺯﺓ ﺍﻻﺳﻠﻤﻲ , ﻳﻘﻮﻝ : ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺆﺧﺮ ﺍﻟﻌﺸﺎﺀ ﺍﻟﻲ ﺛﻠﺚ ﺍﻟﻠﻴﻞ , ﻭﻳﻜﺮﻩ ﺍﻟﻨﻮﻡ ﻗﺒﻠﻬﺎ , ﻭﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺑﻌﺪﻫﺎ , ﻭﻛﺎﻥ ﻳﻘﺮﺍ ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺎﺋﺔ ﺍﻟﻲ ﺍﻟﺴﺘﻴﻦ ’ ﻭﻛﺎﻥ ﻳﻨﺼﺮﻑ ﺣﻴﻦ ﻳﻌﺮﻑ ﺑﻌﻀﻨﺎ ﻭﺟﻪ ﺑﻌﺾ .
“(রাবী সায়িয়ার হতে বর্ণিত) তিনি বলেন, আমি আবু বারঝা আল আসলমীকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায ঘুমের পূর্বে রতের একতৃতীয়াংশে পড়তেন। অন্য হাদীসে আছে। তিনি ফজরের নামাযে ৬০ হতে ১০০ আয়াত পর্যন্ত পড়তেন এবং এমন সময় নামায শেষ করতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম। (সহীহ মুসলিম,৬৪৭) ”
★ যোহরের নামাযঃ
যোহর নামাযের সময়ঃ সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পর থেকে প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।
১. যোহরের রাকাআত সংখ্যাঃ যোহরে মোট ১০ রাকা’আত নামায। প্রথমে ৪ রাকা’আত সুন্নাতে মুয়াক্বাদা,তার পর ৪ রাকা’আত ফরয, তার পর ২ রাকা’আত সুন্নাতে মুয়াক্বাদা।
২. যোহরের নামাযের সুন্নাত কিরা’আত- “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের প্রথম দু’রাকা’আতে ৩০ আয়াত পড়তেন। (সহীহ মুসলিম,মিশকাতুল মাসাবীহ,হাঃ ৮২৯) ”
৩. যোহরের নামাযের প্রথম রাকা’আতে দীর্ঘ ও দ্বিতীয় রাকা’আতে সংক্ষিপ্ত কিরা’আত পড়া সুন্নাত।
এ প্রসঙ্গে হাসীসে এসেছেঃ
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﻗﺘﺎﺩﺓ ﻋﻦ ﺍﺑﻴﻪ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﺮﺍ ﻓﻲ ﺍﻟﺮﻛﻌﺘﻴﻦ ﺍﻻﻭﻟﻴﻴﻦ ﻣﻦ ﺻﻼﻭ ﺍﻟﻈﻬﺮ ﺑﻔﺎﺗﺤﺔ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺳﻮﺭﺗﻴﻦ ﻳﻄﻮﻝ ﻓﻲ ﺍﻻﻭﻟﻰ ﻭﻳﻘﺼﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻧﻴﺔ ﻭﻳﺴﻤﻊ ﺍﻻﻳﺔ ﺍﺣﻴﺎﻧﺎ .
“হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু কাতাদাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের নামাযের প্রথম দুই রাকা’আতের প্রথম রাকা’আতে কিরা’আত দীর্ঘ এবং দ্বিতীয় রাকা’আতে কিরা’আত সংক্ষিপ্ত পড়তেন এবং মাঝে মাঝে তার কিরা’আত শুনা যেত। (সহীহ বুখারী, হাঃ ৭১৫) ”
৪. যোহরের সুন্নাত আগে না পড়তে পারলে পরে পড়তে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের পূর্বে চার রাকাআত সুন্নাত নামায আদায় করতে খুব পছন্দ করতেন। এমন কি যদি কখনো (যোহরের পূর্বে) এ চার রাকা’আত আদায় করতে না পারতেন, তাহলে যোহরের পর তা আদায় করে নিতেন। এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ
ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛَﺎﻥَ ﺇِﺫَﺍ ﻟَﻢْ ﻳُﺼَﻞِّ ﺃَﺭْﺑَﻌًﺎ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮِ ﺻَﻼَّﻫُﻦَّ ﺑَﻌْﺪَﻩُ
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের পূর্বে চার রাকআ’আত (সুন্নাত) আদায় না করতে পারলে যোহরের পর তা আদায় করতেন। (তিরমিযিঃ ৪২৬)
♦যোহরের পূর্বে চার ও পরে দুই রাকাত পড়া সুন্নাত-
باب مَا جَاءَ فِي الأَرْبَعِ قَبْلَ الظُّهْرِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأُمِّ حَبِيبَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ . قَالَ أَبُو بَكْرٍ الْعَطَّارُ قَالَ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ قَالَ كُنَّا نَعْرِفُ فَضْلَ حَدِيثِ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَلَى حَدِيثِ الْحَارِثِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ يَخْتَارُونَ أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَإِسْحَاقَ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ صَلاَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى يَرَوْنَ الْفَصْلَ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ .
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ........ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দু’রাকআত সুন্নাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। (-ইবনু মাজাহ ১১৬১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪২৪)
এই বিষয়ে আয়িশা ও উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস হাসান। আবূ বকর আল-’আত্তার (রহঃ) সুফইয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ হারিস (আল-আওয়ার) এর রিওয়ায়াতের তুলনায় রাবী আসিম ইবনু যামরার রিওয়ায়াত অধিক মর্যাদাসম্পন্ন তা আমরা জানি। অধিকাংশ সাহাবী এবং পরবর্তী আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণ করেছেন। যোহরের পূর্বে চার রাকআত আদায় করা পছন্দীয় বলে তার মনে করেন। সুফইয়ান সাওরী, ইবনু মুরাবক ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমতও এ-ই। কতক আলিম বলেন রাতের হোক বা দিনের, (ফরয ছাড়া অন্যান্য) সালাত (নামায/নামাজ) হলো দু’রাকআত দু’রাকআত করে। তারা প্রতি দু’রাকআতের মাঝে ব্যবধান হওয়ার অভিমত পোষণ করেন। ইমাম শাফিঈ ও আহমদের অভিমত এ-ই।
♦ যোহরের পূর্বে ও পরে ৪ রাকা’আত নামায পড়াও সুন্নাত। এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ
ﻋَﻦْ ﺃُﻡِّ ﺣَﺒِﻴﺒَﺔَ، ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ " ﻣَﻦْ ﺻَﻠَّﻰ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮِ ﺃَﺭْﺑَﻌًﺎ ﻭَﺑَﻌْﺪَﻫَﺎ ﺃَﺭْﺑَﻌًﺎ ﺣَﺮَّﻣَﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ "
উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং এর পর চার রাকআত সুন্নাত আদায় করবে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিবেন। (তিরমিযিঃ ৪২৭)
♦যোহরের পূর্বে ২রাকাত ও পরে ২ রাকাত পড়াও সুন্নাত
باب مَا جَاءَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
আহমদ ইবনু মানী (রহঃ) ...... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে যোহরের পূর্বে দু’রাকআত এবং এর পর দু’রাকআত (সুন্নাত) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেছি। - সহিহ আবু দাউদ ১১৩৮, বুখারি আরো পূর্ণভাবে, তিরমিজী
এই বিষয়ে আলী ও আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি সহীহ।
♣জামাত অতি নিকটবর্তী হলে হাদীসটি অনুস্বরণ করা যাবে।নতুবা বেশী পড়া ভালো।
★ আসরের নামাযঃ
আসর নামাযের সময়ঃ যোহর নামাজের শেষ সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
১. আসরের রাকা’আত সংখ্যাঃ আসরে মোট ৮ রাকা’আত নামায। প্রথমে ৪ রাকা’আত সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা। তারপর ৪ রাকা’আত ফরজ। (তবে সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা নামায হচ্ছে ঐচ্ছিক। অর্থাৎ পড়লে সাওয়াব হবে, আর না পড়লে গুনাহ নেই। তবে পড়া উত্তম।)
২. আসরের নামাযের আগে ৪ রাকা’আত সুন্নাত নামায। আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর দয়া করবেন যে সালাতুল আসরের আগে চার রাকা’আত সুন্নাত নামায আদায় করে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗَﺎﻝَ " ﺭَﺣِﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻣْﺮَﺃً ﺻَﻠَّﻰ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ ﺃَﺭْﺑَﻌًﺎ . " ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻫَﺬَﺍ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﻏَﺮِﻳﺐٌ ﺣَﺴَﻦٌ .
ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ তা’আলা সেই ব্যক্তির উপর রহম করুন যে ব্যক্তি আসরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নাত) আদায় করে।ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব। (তিরমিযিঃ ৪৩০, আবু দাউদঃ ১২৭১)
★ মাগরিবের নামাযঃ
মাগরিব নামাযের সময়ঃ সূর্যাস্তের পর শুরু হয়ে পশ্চিমাকাশের লালিমা বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত।
১. মাগরিবের নামাযে রাকা’আত সংখ্যাঃ মাগরিবে মোট ৫ রাকা’আত নামায। প্রথমে ৩ রাকা’আত ফরয, তারপর ২ রাকাআত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।
২. সূর্যাস্তের সাথে সাথে মাগরিবের নামায আদায় করবে।এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ
ﻋﻦ ﺳﻠﻤﺔ ’ ﻗﺎﻝ : ﻛﻨﺎ ﻧﺼﻠﻲ ﻣﻊ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ ﺍﺫﺍ ﺗﻮﺍﺭﺍﺕ ﺑﺎﻟﺤﺠﺎﺏ
“হযরত সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সূর্য পর্দার আড়াল হওয়ার সাথে সাথে মাগরিবের নামায আদায় করাতাম। (সহীহ বুখারীঃ ৫৬১)
৩. মাগরিবে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ২ রাকা’আত।
♣রাত দিনের বার রাকাত নামাজঃ
এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছেঃ
ﻋَﻦْ ﺃُﻡِّ ﺣَﺒِﻴﺒَﺔَ، ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ " ﻣَﻦْ ﺻَﻠَّﻰ ﻓِﻲ ﻳَﻮْﻡٍ ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﺛِﻨْﺘَﻰْ ﻋَﺸْﺮَﺓَ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﺑُﻨِﻲَ ﻟَﻪُ ﺑَﻴْﺖٌ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺃَﺭْﺑَﻌًﺎ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟﻈُّﻬْﺮِ ﻭَﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺑَﻌْﺪَﻫَﺎ ﻭَﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟْﻤَﻐْﺮِﺏِ ﻭَﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺀِ ﻭَﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﻗَﺒْﻞَ ﺻَﻼَﺓِ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮِ . " ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﻋِﻴﺴَﻰ ﻭَﺣَﺪِﻳﺚُ ﻋَﻨْﺒَﺴَﺔَ ﻋَﻦْ ﺃُﻡِّ ﺣَﺒِﻴﺒَﺔَ ﻓِﻲ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺒَﺎﺏِ ﺣَﺪِﻳﺚٌ ﺣَﺴَﻦٌ ﺻَﺤِﻴﺢٌ ﻭَﻗَﺪْ ﺭُﻭِﻱَ ﻋَﻦْ ﻋَﻨْﺒَﺴَﺔَ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﻭَﺟْﻪٍ
উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রাত-দিনের বার রাকআত (সুন্নাত) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হবেঃ যোহরের পূর্বে চার রাকআত, এরপর দু’রাকআত, মাগরিবের পর দু’রাকআত, এশার পর দু’রাকআত, ভোরের সালাত (নামায/নামাজ) ফজরের পূর্বে দু’রাকআত।ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে আম্বাসা সূত্রে বর্ণিত উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর রিওয়ায়াতটি হাসান-সহীহ। আম্বাসা থেকে অন্য সনদে ও হাদীস বর্ণিত আছে। (তিরমিযিঃ ৪১৫)
★ এশার নামাযঃ
এশার নামাযের সময়ঃ পশ্চিমাকাশের লালিমা মিলিয়ে যাওয়ার পর থেকে সুবহ সাদিক পর্যন্ত।
১. এশার নামাযে রাকা’আত সংখ্যাঃ এশার ওয়াক্তে মোট ৯ রাকা’আত নামায। প্রথমে ৪ রাকা’আত ফরজ, তারপর ২রাকা’আত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, তারপর ৩ রাকা’আত বিতর।
২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার পর সুন্নাত ও কিছু নফল পড়তেন। এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছেঃ
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻫَﺎﺭُﻭﻥُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻳَﺰِﻳﺪُ ﺑْﻦُ ﻫَﺎﺭُﻭﻥَ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﺑَﻬْﺰُ ﺑْﻦُ ﺣَﻜِﻴﻢٍ، ﻓَﺬَﻛَﺮَ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚَ ﺑِﺈِﺳْﻨَﺎﺩِﻩِ ﻗَﺎﻝَ : ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺀَ ﺛُﻢَّ ﻳَﺄْﻭِﻱ ﺇِﻟَﻰ ﻓِﺮَﺍﺷِﻪِ، ﻟَﻢْ ﻳَﺬْﻛُﺮِ ﺍﻷَﺭْﺑَﻊَ ﺭَﻛَﻌَﺎﺕٍ، ﻭَﺳَﺎﻕَ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚَ ﻗَﺎﻝَ ﻓِﻴﻪِ : ﻓَﻴُﺼَﻠِّﻲ ﺛَﻤَﺎﻧِﻲَ ﺭَﻛَﻌَﺎﺕٍ ﻳُﺴَﻮِّﻱ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻦَّ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻘِﺮَﺍﺀَﺓِ ﻭَﺍﻟﺮُّﻛُﻮﻉِ ﻭَﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩِ، ﻭَﻻَ ﻳَﺠْﻠِﺲُ ﻓِﻲ ﺷَﻰْﺀٍ ﻣِﻨْﻬُﻦَّ ﺇِﻻَّ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﺎﻣِﻨَﺔِ، ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺠْﻠِﺲُ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﻭَﻻَ ﻳُﺴَﻠِّﻢُ، ﻓَﻴُﺼَﻠِّﻲ ﺭَﻛْﻌَﺔً ﻳُﻮﺗِﺮُ ﺑِﻬَﺎ، ﺛُﻢَّ ﻳُﺴَﻠِّﻢُ ﺗَﺴْﻠِﻴﻤَﺔً ﻳَﺮْﻓَﻊُ ﺑِﻬَﺎ ﺻَﻮْﺗَﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﻮﻗِﻈَﻨَﺎ، ﺛُﻢَّ ﺳَﺎﻕَ ﻣَﻌْﻨَﺎﻩُ
হারূন ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) বাহয ইবন হাকীম (রহঃ) উপরোক্ত হাদিসের সনদে হাদিস বর্ণনা করেছেন । তিনি বলেনঃ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার নামায শেষে বিছানায় গমন করতেন এবং উক্ত বর্ণনায় তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রাকাত নামায আদায় সম্পর্কে কিছু উল্লেখ রুকূ ও সিজদার মধ্যে সমতা রক্ষা করতেন এবং এই নামাযের কেবলমাত্র শেষ রাকাতে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসতেন । অতঃপর দণ্ডায়মান হয়ে বিতিরের এক রাকাত আদায় করে এমন সশব্দে সালাম ফিরেতেন যে, আমরা জাগ্রত হয়ে যেতাম । অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে। (আবু দাউদঃ১৩৪৭)
৩. বিতর নামাযের হুকুমঃ বিতর নামায সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।(ফিক্বহুস সুন্নাহ ২/১৪৩,নাসাঈ হা/১৬৭৬; মির’আত ২/২০৭) যা এশার ফরয নামাযের পর হতে ফজর পর্যন্ত সুন্নাত ও নফল নামায সমূহের শেষে আদায় করতে হয়। (ফিক্বহুস সুন্নাহ১/১৪৪,সহীহ আত-তারগীব হা/৫৯২-৯৩)
৪. বিতরের নামাযের রাকা’আত সংখ্যাঃ এশা কিংবা তাহাজ্জুদ নামাযের পর রাতের নামাযকে বেজোড় করার জন্য কিছু বেজোড় রাকা’আত নামাযের নাম বিতর নামায। বিতর শব্দের অর্থ বেজোড়। বিভিন্ন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণীত যে, এ বিতর নামায এক, তিন,পাঁচ,সাত কিংবা নয় রাকাআত। (বুখারী,মুসলিম,মিশকাতঃ১১১-১১২)
তবে অধিকাংশ ইমাম তিন রাকাআত পড়তে উৎসাহিত করেছেন।
ﻋﻦ ﺍﺑﻲ ﺍﺑﻮﺏ , ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ﺍﻟﻮﺗﺮ ﺣﻖ , ﻓﻤﻦ ﺷﺎﺀ ﺍﻭ ﺗﺮ ﺑﺴﺒﻊ , ﻭﻣﻦ ﺷﺎﺀ ﺍﻭﺗﺮ ﺑﺨﻤﺲ , ﻭﻣﻦ ﺷﺎﺀ ﺍﻭﺗﺮ ﺑﺜﻼﺙ , ﻭﻣﻦ ﺷﺎﺀ ﺍﻭﺗﺮ ﺑﻮﺍﺣﺪﺓ :
“হযরত আবু আইউব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিতরে হচ্ছে হক্ক (আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বা ওয়াজিব), সুতরাং যার ইচ্ছা সে সাত রাকাআত দিয়ে বিতর আদায় করবে,যার ইচ্ছা সে পাঁচ রাকাআত দিয়ে বিতর আদায় করবে, যার ইচ্ছা সে তিন রাকাআত দিয়ে বিতর আদায় করবে,এবং যার ইচ্ছা সে এক রাকাত দিয়ে বিতর আদায় করবে। (নাসাঈ, হাদীস নং ১৭১০; তাহাবী,ইবনে মাজাহ, বায়হাকী। হাকিম হাদিসটি সহীহ বলেছেন।)
৫. বিতরের নামায না পড়লে সে রাসূলের দলভুক্ত নয়।
ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﺑُﺮَﻳْﺪَﺓَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻗَﺎﻝَ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳَﻘُﻮﻝُ " ﺍﻟْﻮِﺗْﺮُ ﺣَﻖٌّ ﻓَﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳُﻮﺗِﺮْ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﻣِﻨَّﺎ ﺍﻟْﻮِﺗْﺮُ ﺣَﻖٌّ ﻓَﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳُﻮﺗِﺮْ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﻣِﻨَّﺎ ﺍﻟْﻮِﺗْﺮُ ﺣَﻖٌّ ﻓَﻤَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳُﻮﺗِﺮْ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﻣِﻨَّﺎ "
আবদুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াদসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ বিতিরের নামায হক (সত্য)। যে ব্যক্তি এটা আদায় করবে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। এই উক্তিটি তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করেন। (আবু দাউদঃ ১৪১৯)
নামাযের নিষিদ্ধ সময়ঃ
তিন সময়ে নামায পড়া এবং মৃতদের দাফন করা নিষেধ। এই তিনটি সময় হলোঃ
১. সূর্যোদয়ের সময়।
২. ‘ইসতেওয়া’র সময়।অর্থাৎ ঠিক দুপুরে সূর্য যখন মাথার ওপর থাকে।এটি এটি পশ্চিম আকাশে সূর্য হেলে পড়ার আগের হয়।তখন মাত্র কয়েক মিমিটের জন্য নামজ নিষিদ্ধ।
৩. সূর্য অস্ত যাওয়ার সময়।
নামাযের উপকারিতাঃ
নামাযের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। এর আত্মিক, শারীরিক, সামাজিক ও পরকালিন উপকারিতা ও ফজিলত রয়েছে। আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্যের বাস্তবরূপ হচ্ছে নামায। আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য চরম ধ্যান ও নম্রতার সাথে নামাজ আদায় করলে মানুষের আত্মিক উন্নতি সাধিত হয় এবং সফলতা আসে। কুরআন মজিদে আল্লাহতা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ
ﻗَﺪْ ﺃَﻓْﻠَﺢَ ﭐﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻧَﭑﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻓِﻰ ﺻَﻠَﺎﺗِﻬِﻢْ ﺧَٰﺸِﻌُﻮﻥَ
অর্থঃ অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে,যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত। (সূরা মুমিনুনঃ ১-২)
নামাযের অন্যতম উপকার হলো, নামায মানুষকে যাবতীয় অপকর্ম ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে। এ সম্পর্কে আল্লাহতা’আলা কুরআনুল করীমে ইরশাদ করেছেনঃ
ﭐﺗْﻞُ ﻣَﺎٓ ﺃُﻭﺣِﻰَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻣِﻦَ ﭐﻟْﻜِﺘَٰﺐِ ﻭَﺃَﻗِﻢِ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﺗَﻨْﻬَﻰٰ ﻋَﻦِ ﭐﻟْﻔَﺤْﺸَﺎٓﺀِ ﻭَﭐﻟْﻤُﻨﻜَﺮِ ﻭَﻟَﺬِﻛْﺮُ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﺗَﺼْﻨَﻌُﻮﻥَ
তোমার প্রতি যে কিতাব ওহী করা হয়েছে, তা থেকে তিলাওয়াত কর এবং সলাত কায়েম কর। নিশ্চয় সলাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন যা তোমরা কর। (সূরা আনকাবুতঃ ৪৫)
নামাযের শারীরিক উপকারিতা হলোঃ প্রতি ওয়াক্ত নামাযের সময় অজু করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নামায আদায়কালে উঠ-বস এবং শরীরের নড়াচড়ার ফলে স্বাস্থ্যের উপকার হয়। মসজিদে হেঁটে গিয়ে নামায আদায় করার ফলে শরীর ভালো থাকে। বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠে খুব ভোরে মৃদু বাতাসে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায পড়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
নামায সামাজিক উন্নতি ঘটায়ঃ নামাজ মানুষকে নিয়মানুবর্তিতা ও কর্তব্যবোধ শেখায়। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়ের মাধ্যমে যে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়, তার ফলে মানুষ সমাজের অনুকরণীয় ব্যক্তি হিসেবে গড়ে ওঠে।
নামাজের পারলৌকিক গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে আল্লাহর সাথে যে মহব্বত ও আনুগত্যের সম্পর্ক তৈরী হয়,তাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং আখেরাতে জান্নাত লাভের পথ সুগম হয়। এ কারণেই নামাজকে ‘জান্নাতের চাবিকাঠি’ বলা হয়েছে। নামায মানুষকে গুণাহ থেকে বাঁচিয়ে তাকে সুন্দর করে তুলে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমআ হতে অন্য জুমআ এবং এক রমজান থেকে অপর রমজান সে সকল গুনাহ মোচনকারী, যে সকল গুনাহ মধ্যবর্তি সময়ে করা হই, যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়। (সূত্রঃ মিশকাত,পৃঃ৫৭)