ইসলামের কন্ঠইসলামের কন্ঠ
সম্পাদকীয়আর্কাইভআমাদের পরিচিতিলেখা পাঠানোর নিয়মাবলীযোগাযোগের মাধ্যম
হাদীস শরীফ

ইসলামী শরীয়তে মহিলাদের জন্য মসজিদে নামাজ পড়ার বিধান

মহিলাদের নামাজের জন্য মসজিদে গমন নিষেধ করা হয়েছে। মহিলাদের নামাজের উত্তম জায়গা কোথায়? এর উত্তর আছে হাদীস শরীফে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘মহিলাদের নামাজের উত্তম জায়গা হচ্ছে নিজের ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠ।’ হানাফি মাযহাবে মহিলাদের সকল জামাতই নিষেধ করা হয়েছে, আর তার সমর্থনে রয়েছে সনদের দিক থেকে শক্তিশালী মরফু’ হাদিস সমূহ। মসজিদে যাওয়ার অনুমতির হাদিস শরীফ গুলো পুর্বের, আর নিষেধ ও নিরুৎসাহিত করার হাদিস শরীফ গুলো পরের। তাছাড়া সাহাবীদের যুগে মহিলাদের জন্য মসজিদে গমন নিষেধ করে ইজমা হয়েছে।

মোহাম্মদ আব্দুল আজিম
ইসলামী শরীয়তে মহিলাদের জন্য মসজিদে নামাজ পড়ার বিধান

মহিলাদের নামাজের জন্য মসজিদে গমন নিষেধ করা হয়েছে। মহিলাদের নামাজের উত্তম জায়গা কোথায়? এর উত্তর আছে হাদীস শরীফে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ‘মহিলাদের নামাজের উত্তম জায়গা হচ্ছে নিজের ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠ।’ হানাফি মাযহাবে মহিলাদের সকল জামাতই নিষেধ করা হয়েছে, আর তার সমর্থনে রয়েছে সনদের দিক থেকে শক্তিশালী মরফু’ হাদিস সমূহ। মসজিদে যাওয়ার অনুমতির হাদিস শরীফ গুলো পুর্বের, আর নিষেধ ও নিরুৎসাহিত করার হাদিস শরীফ গুলো পরের। তাছাড়া সাহাবীদের যুগে মহিলাদের জন্য মসজিদে গমন নিষেধ করে ইজমা হয়েছে। দয়াল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার শানে বলেছেন, ‘‘আমার পরে যদি কেউ নবী হতেন তাহলে সেই ব্যক্তি হতেন হযরত উমর (রাঃ)।” সেই উমর (রাঃ) মহিলাদের মসজিদে যেতে কিংবা জামাতে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। আর আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) সহ সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) গণ তা গ্রহন করেছেন, আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) ও ইবনে উমর (রাঃ) সহ অনেক সাহাবী কঙ্কর নিক্ষেপ করে মসজিদে আসতে বাধা দেয়ার মাধ্যমে এ বিধান বাস্তবায়ন করছেন। কেউ বিরোধিতা করেন নি। হযরত উমর (রাঃ) এর এ সিদ্ধান্তকে সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম মেনে নিয়ে ইজমায়ে সাহাবা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অথচ এক শ্রেনীর অজ্ঞ লোক সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) এর ইজমা কে অবজ্ঞা করে মহিলাদের মসজিদে গমন ও জামাতে নামাজ আদায় করাকে বৈধ বানানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মহিলাদের নামাজের স্থান নিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশনাঃ

হাদিস শরীফ নং-০১

حدثنا عبدالله بن يوسف قال اخبرنا مالك عن يحي ابن سعيد عن عمرة عن عائشة رضي الله عنها قالت لو ادرك رسول الله صلى الله عليه وسلم ما احدث النسآء لمنعهن كما منعت نسآء بني اسرائيل – (صحيح البخاري- رقم الحديث- ٨٦٩ ، صحيح مسلم – رقم الحديث ٤٤٥)

অনুবাদঃ হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বর্ননা করেন, “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি জানতেন যে, (বর্তমান যুগের তথা ছাহাবী যুগের) মহিলারা কি অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তবে অবশ্যই অবশ্যই তিনি মহিলাদেরকে মসজিদে আসা হারাম করে দিতেন; যেমনি হারাম করা হয়েছিল বনি ঈসরাঈল মহিলাদেরকে।” (বুখারী শরীফ হাদিস নং - ৮৬৯, মুসলিম শরীফ হাদিস নং - ৪৪৫)

মা আয়েশা ছিদ্দিকা (রাঃ) যে যুগের মহিলাদের কথা বলছেন তা হলো, সোনালী যুগের কথা; সাহাবা, তাবেয়ীনগণের কথা, খাইরুল কুরুনের প্রথম যুগের কথা । সে যুগের মহিলাদের ব্যাপারে মা আয়েশা (রাঃ) যিনি “মুকসিরীন রাবির অন্যতম, যার সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমায়েছেন, خذوا نصف دينكم من هذه الحميرة - “আমার পরে তোমরা এই হুমায়রার (আয়েশা রা.) কাছ থেকে অর্ধেক দ্বীন শিক্ষা করবে”। সে মহীয়সী নারীর ফতওয়া যদি হয়- لو ادرك رسول الله صلى الله عليه وسلم ما احدث النسآء لمنعهن “রসুলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি জানতেন যে, (বর্তমান যুগের তথা সাহাবী যুগের) মহিলারা কি অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তবে অবশ্যই অবশ্যই তিনি মহিলাদেরকে মসজিদে আসা হারাম করে দিতে।” অর্থাৎ এই হাদীস শরীফ উল্লেখের মাধ্যমে তিনি তাঁর মত প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান সময়ে মহিলারা মসজিদে আসা হারাম।

আর সাহাবী যুগের মহিলাদের ব্যাপারে মা আয়েশা (রাঃ) এর যদি এই অভিমত হয়। তাহলে বর্তমান আধুনিক যুগে কি হবে? এখনকার যামানার মহিলারা তো নির্লজ্জ অবস্থায় মার্কেটিং করেন। স্কুল-কলেজের নাম ধরে পার্কে গিয়ে ফস্টি-নস্টি করেন, ইয়াবা সেবন করে ডিজে পার্টিতে যুগ দেন, সুযুগ পাইলে আরোও কত কি !! লা মাযহাবী সহ মহিলা জামাতের বৈধতাকারী ভাইগনের কাছে আমার জিজ্ঞাসা- হে মুসলমান ভাই/বোনেরা ! বলুন, এ অবস্থা কি সাহাবায়ে কেরামের যুগে ছিল?? যদি না থেকে থাকে (আর অবশ্যই ছিলনা), তাহলে কি করে মহিলা জামাতের অনুমোদন দেবেন? যারা বুখারী–মুসলিম মানেন (আমরাও মানি, তবে শুধু মাত্র বুখারী মুসলিমই হাদিস শরীফের কিতাব নয়; আরোও আছে) তারা কি বলতে পারবেন, এটা বুখারী – মুসলিমে নেই ? কোন মতেই বলতে পারবেন না ! তাহলে মহিলা জামাতের বৈধতা কি দিয়ে দেবেন ??

হাদিস শরীফ নং-০২

قال حدثنا محمد بن المثنى قال حدثنا عمر بن عاصم قال حدثنا همام عن قتادة ،عن مُورِّق ، عن ابي الأحوص ، عن عبدالله ، عن النبي صلى الله عليه وسلم- قال المرأة عورة ، فإذا خرجت إستشرفها الشيطان ، واقرب ما تكون بروحة ربها وهي في قعر بيتها- (صحيح مسند البزار- ٢٠٦١، صحيح ابن خزيمة - ١٦٨٥، سنن ترمذي – ١١٧٣، مشكواة شريف – ٣١٠٩، ابن كثير- ج١١ص١٥١)

অনুবাদঃ “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহিলাগণ পুরোটা-ই পর্দা তথা ঢেকে রাখার বস্তু। সুতরাং এরা যখন বের হয়, তখন শয়তান (লালসা মিটানোর জন্য) ওৎ পেতে বসে থাকে। আর যখন তারা নিজ বাড়ীতে অবস্থান করে, তখন আল্লাহ পাকের একদম নিকটবর্তী থাকে”। (সহীহ মুসনাদুল বাজ্জার হাদিস শরীফ নং-২০৬১, ছহিহ ইবনে খুজাইমা হাদিস শরীফ নং-১৬৮৫, সুনান তিরমিযি হাদিস শরীফ নং-১১৭৩, মিশকাত শরীফ হাদিস শরীফ নং-৩১০৯, তাফসীরে ইবনে কসির ১১তম খন্ড ১৫১নং পৃষ্ঠা, আল ইরওয়াউল গালিল লিল আলবানী, ১/৩০৩, হাদিস নং ২৭৩।)

হাদিসের সনদ, হাসান ছহিহ। আর নাসিরুদ্দীন আলবানী তার “আল ইরওয়াউল গালিল” কিতাবের ১ম জিলদ ৩০৩ নং পৃষ্ঠায় হাদিসটি ছহিহ বলেছেন। সুতরাং এই হাদিস শরীফের নির্দেশও হলো, মহিলারা বাহিরে যাবেনা।

হাদিস শরীফ নং-০৩

اَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْغَافِقِيُّ، ثنا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُوَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَمَّتِهِ، امْرَأَةِ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّهَا جَاءَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِنِّي أُحِبُّ الصَّلَاةَ مَعَكَ، فَقَالَ : قَدْ عَلِمْتُ أَنَّكِ تُحِبِّينَ الصَّلَاةَ مَعِي ، وَصَلَاتُكِ فِي بَيْتِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي حُجْرَتِكِ ، وَصَلَاتُكِ فِي حُجْرَتِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي دَارِكِ ، وَصَلَاتُكِ فِي دَارِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ ، وَصَلَاتُكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلَاتِكِ فِي مَسْجِدِي ، فَأَمَرَتْ ، فَبُنِيَ لَهَا مَسْجِدٌ فِي أَقْصَى شَيْءٍ مِنْ بَيْتِهَا وَأَظْلَمِهِ ، فَكَانَتْ تُصَلِّي فِيهِ حَتَّى لَقِيَتِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ. (صحيح ابن خزيمة - ١٦٨٩، الفتح الرباني – ١٣٣٧ ، صحيح الترغيب للالباني رقم ٣٤٠)

অনুবাদঃ “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সুওয়াইদ আল আনসারী (রাঃ) তাঁর ফুফু উম্মে হুমাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (উম্মে হুমাইদ) দয়াল নবীজীর কাছে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনার সাথে নামাজ পড়তে পছন্দ করি। নবীজী জবাব দিলেন, নিশ্চয়ই আমি জানি তোমরা আমার সাথে নামাজ আদায় করতে পছন্দ কর। কিন্ত আমার মাসজিদ থেকে তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়াতে তোমার সওয়াব বেশী হবে। তোমার মহল্লার মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে তোমার বাড়ীতে (যে কোন জায়গায়) নামাজ পড়লে তার চেয়েও তোমার সওয়াব বেশী হবে। তোমার বাড়ীর (যে কোন জায়গায়) নামাজ পড়ার চেয়ে তোমার বসার ঘরে নামাজ পড়লে সওয়াব বেশী হবে। তোমার বসার ঘরে নামাজ পড়ার চেয়ে তোমার একান্ত ঘরে (গোপন কুটরি, যেখানে সকলের যাওয়ার অনুমোতি নেই) নামাজ পড়লে তোমার জন্য অত্যধিক সওয়াব বা কল্যাণ হবে। বর্ণনাকারী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সুওয়াইদ আল আনসারী (রঃ) বলেন, হযরত উম্মে হুমাইদ (রাঃ) এর নির্দেশে তাঁর বাড়ীতে তার জন্য আলাদা একটি ঘর বানানো হলো। তিনি ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত সেখানেই নামায আদায় করতেন।” (ছহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস শরীফ নং-১৬৮৯, ফতহুর রব্বানী খন্ড ০৫ পৃষ্ঠা ১৯৮,হাদিস শরীফ নং-১৩৩৭)

হাদিসের সনদ, হাসান ছহিহ। সুতরাং প্রমাণীত হলো, মহিলাদের জন্য জামাতে শরীক হওয়ার চেয়ে নিজ গোপন ঘরে একাকী নামায পড়লেই নেকী বেশী পাবে এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলতঃ মহিলাদেরকে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়া থেকে নিরুৎসাহী করেছেন।

হাদিস শরীফ নং-০৪

حدثنا ابن المثنى ، أن عمروبن عاصم حدثهم قال همام عن قتادة، عن مورق، عن ابي الاحوص، عن عبد الله مسعود قال قال النبي صلى الله عليه وسلم قال – صلاة المرأة في بيتها افضل من صلاتها في حجرتها ، وصلاتها في مخدعها افضل من صلاتها في بيتها- (ابو داؤد ٥٧٠ ، مسند البزار٢٠٦٠، ابن خزيمة ١٦٩٠،١٦٨٨، ابن كثير ج ١١ ص ١٥١)

অনুবাদঃ হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নারীর অন্দর মহলের নামাজ তার বাড়ীর (ড্রয়িং রুম) নামাজের চাইতে উত্তম। আর বাড়ীর নামাজ বারান্দার নামাজের চাইতে উত্তম।” (আবু দাউদ-৫৭০,বাজ্জার-২০৬০, ইবনে খুজাইমা-১৬৯০,১৬৮৮,ইবনে কছির ১১/১৫১) হাদিসের সনদ, ছহিহ।

নারীর অন্দর মহলেকে মহিলাদের জন্য নামাজের উত্তম স্থান হিসেবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন।

হাদিস শরীফ নং- ০৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ غَيْلَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا رِشْدِينُ، حَدَّثَنِي عَمْرٌو، عَنْ أَبِي السَّمْحِ، عَنِ السَّائِبِ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: خَيْرُ مَسَاجِدِ النِّسَاءِ قَعْرُ بُيُوتِهِنَّ. (مسند احمد ط مؤسسة الرسالة رقم الحديث ٢٦٥٤٢ ، صحيح ابن خزيمة ط المكتبة الاسلامى رقم الحديث ١٦٨٣ ، صحيح الترغيب للالباني رقم ٣٤١)

অনুবাদঃ “হযরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমায়েছেন, মহিলাদের জন্য তাদের নিজ ঘরের গোপন প্রকোষ্টই উত্তম মসজিদ।” (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং ২৬৫৪২, ছহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং ১৬৮৩, ছহিহ আত তারগীব, হাদিস নং ৩৪১) হাদিসের সনদ, হাসান ছহিহ।

হাদিস শরীফ নং- ০৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ، وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ. (سنن الترمذي رقم الحديث ٥٦٧ ، صحيح الجامع للالباني رقم الحديث ٧٤٥٨)

অনুবাদঃ “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা নারীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করনা। তবে জেনে রাখো, (নামাজের জন্য) তাদের একান্ত ঘরই উত্তম।” (আবু দাউদ ৫৬৭, ছহিহ আল জামে লিল আলবানী, ৭৪৫৮) হাদিসের সনদ, সহীহ।

উক্ত হাদিস শরীফ থেকে বুঝা যায়, স্বামী কিংবা অবিভাবকের অনুমোদন ছাড়া মহিলারা জামাতে যেতে পারবেনা এবং মসজিদ কিংবা অন্যস্থানে জামাতে নামায আদায় করা থেকে তার ঘরে একাকী নামায আদায় করাই উত্তম।

হাদিস শরীফ নং- ০৭

ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻗﺎﻟﺖ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ “ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻬﺎ ﻭﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻬﺎ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﺩﺍﺭﻫﺎ ﻭﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﺩﺍﺭﻫﺎ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻴﻤﺎ ﻭﺭﺍﺀ ﺫﻟﻚ ” . ‏( ﺍﻟﺘﻤﻬﻴﺪ ﻻﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺒﺮ : ৪০১/২৩)

অনুবাদঃ হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- মহিলাদের ছোট কামরার নামায বড় কামরার নামাযের চেয়ে উত্তম। বড় কামরায় নামায ঘরে আঙ্গিনার নামাযের চেয়ে উত্তম। আর ঘরের আঙ্গিনার নামায অন্যান্য জায়গায় নামাযের তুলনায় উত্তম। (আত তামহীদ : খ.২৩ পৃ.৪০১)

হাদিস শরীফ নং- ০৮

ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻭﺣﺪﻫﺎ ﺗﻔﻀﻞ ﻋﻠﻰ ﺻﻼﺗﻬﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻤﻊ ﺑﺨﻤﺲ ﻭﻋﺸﺮﻳﻦ ﺩﺭﺟﺔ . ‏( ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﺍﻟﺼﻐﻴﺮ :২২৩/৪)

অনুবাদঃ হযরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘মহিলাদের একাকী নামায জামাতের সাথে আদায়কৃত নামাযের থেকে পঁচিশগুণ বেশী ফযিলতপূর্ণ। (জামেউস সগীর : খ.৪ পৃ.২২৩)

হাদিস শরীফ নং- ০৯

ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ﺇﻥ ﺃﺣﺐ ﺻﻼﺓ ﺗﺼﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺃﺷﺪ ﻣﻜﺎﻥ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﻇﻠﻤﺔ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺤﻪ : ১৬৯১)

অনুবাদঃ হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর নিকট মহিলাদের ঐ নামায সবচেয়ে প্রিয় যা ঘরের বেশী অন্ধকারময় কামরায় আদায় করা হয়। (সহীহ ইবনে খুযায়মা : ১৬৯১)

হাদিস শরীফ নং- ১০

ﻭﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻗﺎﻝ : ﺇﻧﻤﺎ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻋﻮﺭﺓ ﻭﺇﻥ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻟﺘﺨﺮﺝ ﻣﻦ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﻭﻣﺎ ﺑﻬﺎ ﻣﻦ ﺑﺄﺱ ﻓﻴﺴﺘﺸﺮﻓﻬﺎ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﻓﻴﻘﻮﻝ : ﺇﻧﻚ ﻻ ﺗﻤﺮﻳﻦ ﺑﺄﺣﺪ ﺇﻻ ﺃﻋﺠﺒﺘﻴﻪ ﻭﺇﻥ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻟﺘﻠﺒﺲ ﺛﻴﺎﺑﻬﺎ ﻓﻴﻘﺎﻝ : ﺃﻳﻦ ﺗﺮﻳﺪﻳﻦ ؟ ﻓﺘﻘﻮﻝ : ﺃﻋﻮﺩ ﻣﺮﻳﻀﺎ ﺃﻭ ﺃﺷﻬﺪ ﺟﻨﺎﺯﺓ ﺃﻭ ﺃﺻﻠﻲ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪ ﻭﻣﺎ ﻋﺒﺪﺕ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺭﺑﻬﺎ ﻣﺜﻞ ﺃﻥ ﺗﻌﺒﺪﻩ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻪ

অনুবাদঃ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, মহিলারা আপাদমস্তক পর্দায় থাকার বস্তু। নি:সন্দেহে মহিলারা নির্দোষ অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়। অতঃপর শয়তান তার প্রতি কুদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে, তুমি যার সামনে দিয়েই অতিক্রম করবে তার কাছেই পছন্দনীয় হবে। মহিলারা যখন কাপড় পরিধান করে তখন পরিবারের লোকজন জিজ্ঞেস করে, কোথায় যেতে চাচ্ছ ? তখন সে বলে, কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাচ্ছি। অথবা মাইয়্যেতের জানাযা পড়তে যাচ্ছি। অথবা মসজিদে নামায পড়তে যাচ্ছি। বস্তুত: মহিলাদের অন্দর মহলে ইবাদতের চাইতে কোন ইবাদাতই উত্তম নয়। (আল-মু‘জামুল কাবীর: খ: ৪ পৃ: ৫৮৭ হাদীস নং ৯৩৬৭)

আল্লামা তবরানী রহ. হাদীসটিকে নির্ভরযুগ্য বর্ণনাকারী দ্বারা বর্ণনা করেছেন।

হাদিস শরীফ নং- ১১

ﻭﻋﻨﻪ ﺃﻳﻀﺎ ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺤﻠﻒ ﻓﻴﺒﻠﻎ ﻓﻲ ﺍﻟﻴﻤﻴﻦ : ﻣﺎ ﻣﻦ ﻣﺼﻠﻰ ﻟﻠﻤﺮﺃﺓ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺑﻴﺘﻬﺎ ﺇﻻ ﻓﻲ ﺣﺞ ﺃﻭ ﻋﻤﺮﺓ ﺇﻻ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﻗﺪ ﻳﺌﺴﺖ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﻌﻮﻟﺔ ﻭﻫﻲ ﻓﻲ ﻣﻨﻘﻠﻴﻬﺎ . ﻗﻠﺖ : ﻣﺎ ﻣﻨﻘﻠﻴﻬﺎ ؟ ﻗﺎﻝ : ﺍﻣﺮﺃﺓ ﻋﺠﻮﺯ ﻗﺪ ﺗﻘﺎﺭﺏ ﺧﻄﻮﻫﺎ ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ ﻭﺭﺟﺎﻟﻪ ﻣﻮﺛﻘﻮﻥ )

অনুবাদঃ ইবনে মাসউদ (রা.) এর আমল- তিনি কসম করতেন এবং দৃঢ়ভাবে কসম করতেন যে, মহিলাদের জন্য তার অন্দর মহল থেকে উত্তম নামাযের কোন স্থান নেই। তবে দুই ধরণের মহিলা ব্যতীত। ১. হজ এবং ওমরায় গমনকারিনী। ২. ঐ মহিলা যে তার স্বামী থেকে নিরাশ হয়ে গেছে এবং নিজের মুনকালীন এ আছে। বর্ণনাকারী জিজ্ঞেস করলেন, মুনকালীন-এ থাকার অর্থ কী? তিনি বললেন, এমন বৃদ্ধা হয়ে যাওয়া যে, অতিরিক্ত দুর্বলতার কারণে কাছে কাছে পা পড়ে। আল্লামা তবারানী আল-মু’জামূল কাবীরে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর প্রত্যেকটি বর্ণনাকারী নির্ভরযুগ্য। (আল-মু’জামূল কাবীর: ৪/৫৮৬,হাদীস নং ৯৩৬১-৯৩৬২)

হাদিস শরীফ নং-১২

ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺃﻥ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺳﺄﻟﺘﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻓﻘﺎﻝ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﻣﺨﺪﻋﻚ ﺃﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻚ ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻚ ﺃﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻚ ﻭﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﺣﺠﺮﺗﻚ ﺃﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﺻﻼﺗﻚ ﻓﻲ ﻣﺴﺠﺪ ﻗﻮﻣﻚ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﺷﻴﺐ : ৭৬৯৭)

অনুবাদঃ হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এর ‘ফাতওয়া’- এক মহিলা ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে জুমার দিন মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তোমাদের শোয়ার ঘরে নামায আদায় করা ঘরে নামায পড়া থেকে উত্তম। ঘরে নামায পড়া আঙ্গিনার নামায থেকে । আঙ্গিনায় নামায পড়া মহল্লার মসজিদে নামায আদায় করার চেয়ে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা : ৭৬৯৭)

হাদিস শরীফ নং- ১৩

ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻗﺎﻟﺖ ﻛﺎﻥ ﻧﺴﺎﺀ ﺑﻨﻲ ﺇﺳﺮﺍﺋﻴﻞ ﻳﺘﺨﺬﻥ ﺃﺭﺟﻼ ﻣﻦ ﺧﺸﺐ ﻳﺘﺸﺮﻓﻦ ﻟﻠﺮﺟﺎﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻓﺤﺮﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻬﻦ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻭﺳﻠﻄﺖ ﻋﻠﻴﻬﻦ ﺍﻟﺤﻴﻀﺔ . ‏( ﺍﺧﺮﺟﻪ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺯﺍﻕ ﻓﻲ ﻣﺼﻨﻔﻪ : ৫১২৮)

অনুবাদঃ হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- বনী ইসরাঈলের মহিলারা উঁচু উঁচু কাঠের পা বানিয়ে নিতো। যাতে মসজিদে গিয়ে এগুলো ব্যবহার করে উঁকি মেরে পুরুষদের দেখতে পায়। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা অসুন্তুষ্ট হয়ে তাদের মসজিদে যাওয়া হারাম করে দিয়েছেন এবং তাদের উপর ঋতুস্রাবের সমস্যা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক : ৫১২৮)

হাদিস শরীফ নং- ১৪

ﺃﻧﻪ ﺭﺃﻯ ﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻳﺨﺮﺝ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻭﻳﻘﻮﻝ : ﺍﺧﺮﺟﻦ ﺇﻟﻰ ﺑﻴﻮﺗﻜﻦ ﺧﻴﺮ ﻟﻜﻦ . ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻄﺒﺮﺍﻧﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﺒﻴﺮ : ৯৪৭৫)

অনুবাদঃ আবু আমর শাইবানী রহমতুল্লাহি আলািইহি বর্ণনা করেন- আমি হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) কে দেখেছি, তিনি জুমার দিন মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিচ্ছেন এবং বলছেন, তোমরা ঘরে চলে যাও ওটাই তোমাদের জন্য উত্তম। (মুজামুল কাবীর : ৯৪৭৫)

হাদিস শরীফ নং- ১৫

ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺍﺑْﻦ ﻋﻤﺮ، ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ، ﻳﻘﻮﻡ ﻳﺤﺼﺐ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻟْﺠُﻤُﻌَﺔ ﻳﺨﺮﺟﻬﻦ ﻣﻦ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪ .

অনুবাদঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) জুমার দিন দাঁড়িয়ে ছোট ছোট কঙ্কর নিক্ষেপ করে মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন। (উমদাতুল কারী : খ.৪ পৃ.৬৪৭)

এসব হাদীসসমূহ থেকে যা প্রমাণিত :

অধিক সংখ্যক হাদীস শরীফ বর্ণনাকারীদের অন্যতম হযরত আয়েশা (রা.), যার দ্বীনি জ্ঞানের প্রসংশায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমায়েছেন- خذوا نصف دينكم من هذه الحميرة - “আমার পরে তোমরা এই হুমায়রার (আয়েশা রা.) কাছ থেকে অর্ধেক দীন শিক্ষা করবে”। সে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) সাহাবী যুগের মুসলিমার করণীয় নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছেন, মুসলিম রমনীদের চারিত্রক পবিত্রতা, উৎকষর্তা এবং ইজ্জত -সম্মান হেফাজতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার যেসব শর্তাবলী আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে সেগুলোর দিকে তারা ততোটা ভ্রুক্ষেপ করছেন না। মার্জিত ও উন্নত চরিত্রের যে অনুপম নমুনা তাদের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে বিদ্ধমান ছিলো তা এখন পূর্বের মতো উপস্থিত নেই। অতএব এ ধরনের চারিত্রিক অবক্ষয়ের কারণে এখন আর মসজিদে গমনের অনুমতি দেয়া যায় না। তাই তিনি এ ভাষায় মসজিদে গমনকে নারীর জন্য নিষেধ করলেন যে, لو ادرك رسول الله صلى الله عليه وسلم ما احدث النسآء لمنعهن ‘‘স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি থাকতেন আর মহিলাদের এ পরিবর্তন লক্ষ করতেন তাহলে তিনিই তাদেরকে মসজিদ গমনের বৈধতার বিধান স্থগিত করে অবৈধ হওয়ার বিধান চালু করতেন এবং মসজিদে যেতে বারণ করতেন।’’ (তাহলে চিন্তা করুন বর্তমান আধুনিক যুগের নারীদের চাল-চলনের অবস্থা দেখলে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) কি সিদ্ধান্ত দিতেন?) হযরত আয়েশা (রা.) এর সিদ্ধান্তের সাথে একমত হয়ে হযরত উমর (রা.) মহিলাদের মসজিদে গমন নিষিদ্ধ করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), ইবনে উমর (রা.) সহ অনেক সাহাবী কঙ্কর নিক্ষেপ করেও এ বিধান বাস্তবায়ন করছেন। হযরত উমর (রা.) -এর এ সিদ্ধান্তকে সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম মেনে নেয়ার কারণে ইজমায়ে সাহাবা প্রতিষ্টিত হল।

উল্লেখ্য যে, ছাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) গণের কথা , কাজ ও মৌন সমর্থনকেও হদিস শরীফ বলে। অতএব, হানাফি মাযহাবের ফতওয়া- “মহিলাদের জামাতে নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরীমী” কোন ভ্রান্ত ফতওয়া নয়; বরং তা সহীহ হদিস শরীফ দ্বারাই প্রমানীত।

হে সম্মানীতা মা / বোনেরা ! ইসলামের প্রথম দিকে মুসলমানদের সংখ্যাধিক্যতা বুঝানোর জন্যে ও নওমুসলিম মহিলাদেরকে ইসলামের বিধি বিধান শিক্ষা দেয়ার জন্যে অনুমতি সাপেক্ষে তাদেরকে জামাতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। যেমন আপনারা বুখারী মুসলিমের নিম্নের হাদিস খানার দিকে নজর দেন যেখানে ঋতুবর্তী মহিলাদেরকেও ঈদের নামাযে যেতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। যেমন হাদিস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে-

عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْها قَالَتْ : أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نُخْرِجَهُنَّ فِي الْفِطْرِ وَالأَضْحَى الْعَوَاتِقَ وَالْحُيَّضَ وَذَوَاتِ الْخُدُورِ ، فَأَمَّا الْحُيَّضُ فَيَعْتَزِلْنَ الصَّلاةَ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ . قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِحْدَانَا لا يَكُونُ لَهَا جِلْبَابٌ . قَالَ : لِتُلْبِسْهَا أُخْتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا. (صحيح مسلم كتاب صلاة العيدين رقم ١٢)

অনুবাদঃ হযরত উম্মে আতিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন আমরা যেন মহিলাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহাতে সলাতের জন্য বের করে দেই; পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহ বাসিনী সহ সকলকেই। কিন্তু ঋতুবতী মেয়েরা (ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে) সালাত আদায় থেকে বিরত থাকবে। তবে কল্যাণ ও মুসলিমদের দুআয় অংশ নিবে। হযরত উম্মে আতিয়া (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের মাঝে কারো কারো ওড়না নেই, যা পরিধান করে আমরা ঈদের নামাজে যেতে পারি! রাসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তার অন্য বোন থেকে ওড়না নিয়ে পরিধান করবে। (সহীহ মুসলিম, কিতাবু ছালাতিল ঈদাইন, অধ্যায়ের ১২ নং হাদিস)

প্রিয় পাঠক ভাই ও বোনেরা ! দেখুন হাদিসে হায়েয ওয়ালী মহিলাদেরকেও ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। এখন লা মাযহাবীগণ সহ যারা মহিলা জামাতের পক্ষে, আপনারা কি হায়েয ওয়ালী মহিলাদেরকে জামাতে পাঠাবেন ? আর যদি না পাঠান তাহলে এই ছহিহ হাদিসটির ব্যাপারে কি বলবেন ?? নিশ্চয়ই আপনারা বলতে বাধ্য হবেন এটা ছিল নামাজ শেখানো যাতে তারা নিজেদের সন্তানদের শেখাতে পারে। নতুবা বলতে হবে মুসলমানদের সংখ্যাধিক্যতা বুঝানোই মকছূদ ছিল।

হানাফী মাযহাব ও জমহুর উলামাদের মতে মহিলাদের জন্য মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার হুকুম:

০১. আল্লামা ইমাম ফরীদুদ্দীন আলম ইবনুল আ’লা দেহলবী (রাহ.) (ইন্তেকাল ৭৮৬ হিজরী) লিখিত হানাফি ফিক্বহের বিখ্যাত ফতওয়ার কিতাব “আল ফাতাওয়া আত তাতারখানিয়া” উল্লেখ আছে-

عن أبي يوسف قال : سألت أبا حنيفة عن النساء هل يرخص لهن في حضور المسجد ؟ فقال العجوز تخرج للعشاء والفجر ولا تخرج لغيرهما ، والشابة لا تخرج في شيئ من ذالك. وقال أبو يوسف : والعجوز تخرج في الصلوات كلها ، وفي الكافي : واختلفت الروايات في المغرب ، فجاز أن يكون فيه رواتان ، والفتاوى اليوم على الكراهة في كل الصلوات لظهور الفساد.

অনুবাদঃ ইমাম আবু ইউসূফ (রাহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) কে জিজ্ঞেস করলাম, মহিলাদের মসজিদে আসার ব্যাপারে অনুমতি আছে কি না? অতঃপর তিনি জবাব দিলেন, যৌবনে অক্ষম মহিলারা ইশা ও ফজরে বের হবে, অন্য কোন ওয়াক্তে নয়। আর যুবতীরা কোন ওয়াক্তেই মসজিদে যাবেনা। আর ইমাম আবু ইউসূফ (রাহ.) বলেন, যৌবনে অক্ষম মহিলারা সব ওয়াক্তেই মসজিদে যেতে পারবে। আর কাফী কিতাবে আছে, মাগরীবের নামাযে যৌবনে অক্ষম মহিলাদের উপস্থিতির ব্যাপারে এখতেলাফ আছে। তবে তা উপরোক্ত দুটি রেওয়ায়েত অনুযায়ী বৈধ কিংবা অবৈধ হবে। আর বর্তমান যামানার জন্য প্রযোজ্য ফতওয়া হলো, ফেতনা ফ্যাসাদের সমূহ সম্ভাবনা থাকায় জওয়ান/বৃদ্ধ সকল নারীর জন্য যে কোন নামাজের জামাতে হাজির হওয়া মাকরূহ তাহরীমী। (আল ফাতাওয়া আত তাতারখানিয়া” জিলদ-০১, পৃষ্ঠা নং-৬২৮)

০২. আল্লামা ইমাম আব্দুর রহমান আল জাযিরী (রাহ.) নিজ কিতাবে বলেছেন-

الحنفية قالوا، الافضل ان تصلي المرأة في بيتها ظهرا، سواء كانت عجوزا أو شابة، لأن الجماعة لم تشرع في حقها.

অনুবাদঃ হানাফীগণ বলেন, মহিলারা নিজ ঘরেই যোহরের নামাজ পড়বে, এটাই উত্তম। এক্ষেত্রে জওয়ান/বুড়ো সমান। কেননা মহিলাদের জন্য জামাত নেই। (আল ফিক্বহু আলা মাযাহিবিল আরবা’আহ, জিলদ- ০১, পৃষ্ঠা নং -৩৪৯)

উক্ত অভিমত যেহেতু জুমার নামাযের আলোচনায় হয়েছে তাই উনি শুধু যোহরের নামাযের উল্লেখ করেছেন।

০৩. বিখ্যাত ফতওয়ার কিতাব “আদ দুররুল মুখতার” প্রণেতা আল্লামা ইমাম আলাউদ্দীন হাসকাফী রাহ. (ইন্তেকাল ১০৮৮ হিজরী) বলেন-

(وَ) يُكْرَهُ تَحْرِيمًا (جَمَاعَةُ النِّسَاءِ) وَلَوْ التَّرَاوِيحَ فِي غَيْرِ صَلَاةِ جِنَازَةٍ (لِأَنَّهَا لَمْ تُشْرَعْ مُكَرَّرَةً).

অনুবাদঃ মহিলাদের জন্য জামাতে নামায আদায় করা মাকরূহে তাহরীমী। এমনকি তারাবীহ নামায হলেও মাকরূহে তাহরীমী হবে। তবে জানাজার নামাজের বিষয়টি ভিন্ন কেননা তা তকরারে অনুমোদন নেই।

তিনি উক্ত কিতাবের একই পৃষ্ঠায় আরোও বলেন,

(وَيُكْرَهُ حُضُورُهُنَّ الْجَمَاعَةَ) وَلَوْ لِجُمُعَةٍ وَعِيدٍ وَوَعْظٍ (مُطْلَقًا) وَلَوْ عَجُوزًا لَيْلًا (عَلَى الْمَذْهَبِ) الْمُفْتَى بِهِ لِفَسَادِ الزَّمَانِ.

অনুবাদঃ মহিলাদের জন্য জামাতে হাজির হওয়া মাকরূহ তাহরীমী যদিও জুমাআ, ঈদ, কিংবা ওয়াজ মাহফিল তথা যে কোন প্রকার মাহফিলই হোক। এক্ষেত্রে বৃদ্ধা কিংবা রাতের শর্ত নেই। সর্বাবস্থায় ফিতনা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় তা নিষিদ্ধ। এর উপরই মাযহাবের চুড়ান্ত ফায়সালা। (আদ দুররুল মুখতার, দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ বৈরূতের ছাপা পৃষ্ঠা নং-৭৭)

০৪. হানাফী মাযহাবের মশহুর ও মকবুল কিতাব “ফাতাওয়া আলমগীরী” তে উল্লেখ আছে-

وكره لهن حضور الجماعة إلا للعجوز في الفجر والمغرب والعشاء، والفتوى اليوم على الكراهة في كل الصلوات لظهور الفساد كذا في الكافي، وهو المختار كذا في التبيين .

অনুবাদঃ মহিলাদের জন্য জামাতে হাজির হওয়া মাকরূহে তাহরীমী। তবে যৌবনে অক্ষম মহিলারা ফজর মাগরীব ও এশার নামাজের জামাতে শরীক হতে পারবে। কিন্তু বর্তমান জামানার ফিতনা ফ্যাসাদের কারণে সকল নামাজে জোওয়ান/বৃদ্ধা সকলের জন্য উপস্থিত হওয়া সর্ব সম্মতিক্রমে মাকরূহ তাহরীমী, এটা কাফী কিতাবে আছে। আর এটাই গ্রহণ যুগ্য অভিমত, কথাটি তাবঈন কিতাবে বর্ণিত আছে। (ফাতাওয়া আলমগীরী, তবআতু আল আমিরিইয়্যাহ মিশরের ছাপা ০১ম জিলদ ৮৯ নং পৃষ্ঠা, দারুল কুতুব আল ইলমিইয়্যাহ লেবাননী ছাপা ০১ম জিলদ ৯৮ নং পৃষ্ঠা)

০৫. দেওবন্দী ফতওয়ার কিতাব “আহসানুল ফাতাওয়া” তে উল্লেখ আছে-

عورتوں کے لئے جماعت میں شریک ہونا مکروہ تحریمی ہے ۔

অনুবাদঃ মহিলাদের জন্য জামাতে শরীক হওয়া মাকরূহ তাহরীমী। (আহসানুল ফাতাওয়া, ৩য় জিলদ ২৮৩ নং পৃষ্ঠা)





০৬. হেদায়ার লেখক বলেন, যুবতী মহিলাদের জামায়াতে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী। তিনি আরো বলেন, জামায়াত বলতে এখানে (পাঁচ ওয়াক্তসহ) জুময়া, ঈদাইন, কুসূফ, ইস্তেস্কা ইত্যাদি সবই অন্তর্ভূক্ত। আমাদের ফকীহগণ বলেন কেননা উনাদের (মহিলাদের) জামায়াতের জন্য বের হওয়ায় ফিৎনার আশঙ্কা রয়েছে, আর ফিৎনা হারামের অন্তর্ভূক্ত, আর যা হারাম কাজে সহায়তা করে তাও হারাম, এ কারণেই ফকীহগণ মাকরূহ তাহরীমীর দ্বারা মূলতঃ মহিলাদের জামায়াতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়াই উদ্দেশ্য। (উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী ৫ম জিলদ, পৃষ্ঠা-১৫৬, ফাতহুল মুলহিম, শরহে মসলিম ২য় জিলদ, পৃষ্ঠা-৪২৮, তাফহীমুল মুসলিম ১৪ জিলদ, পৃষ্ঠা- ২১)

০৭. উলামায়ে মুতাআখখেরীনগণ মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া নিষেধ বলে মত প্রকাশ করেন। কেননা হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে মরফূ হাদীছ হিসাবে বর্ণিত রয়েছে যে, মহিলাদের হুজরায় নামায পড়ার চেয়ে ঘরে নামায পড়া সর্বোত্তম এবং ঘরের চেয়ে গোপন প্রকোষ্ট সর্বোত্তম। উপরোক্ত হাদীছ শরীফ-এর আলোকে শরীয়ত এ মতেই ব্যক্ত করে যে, মহিলাগণ জামায়াতের জন্য মসজিদে যাবে না। (ফায়জুল বারী শরহে বুখারী ২য় জিলদ, পৃষ্ঠা-৩২২, বযলুল মাযহুদ শরহে আবু দাউদ)


০৮. ইমাম হযরত তাহাবী (রাহ.) তিনি বলেন, মহিলাদের ইসলামের প্রথম যুগে জামায়াতে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করার কারণ হলো বেদ্বীনদের সম্মুখে মুসলমানদের জনসংখ্যা ও জনশক্তি বৃদ্ধি করা। হযরত আইনী (রাহ.) বলেন, সে যুগ ফিৎনা ফাসাদ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা একেবারেই বিপরীত। বেদায়ের লেখক বলেন, যুবতী মহিলাদের (পাঁচ ওয়াক্তসহ) জুময়া, ঈদাইন ইত্যাদিতে যোগদান করার অনুমতি নেই, কেননা মহান আল্লাহ পাক বলেন, ‘‘(হে মহিলাগণ) তোমরা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাক।’’ এ ছাড়াও মহিলাদের ঘর হতে বের হওয়ার মধ্যে ফিৎনার আশঙ্কা রয়েছে। (মায়ারিফে মাদানিয়াহ, শরহে তিরমিযী ৮ম জিলদ, পৃষ্ঠা-১০৮)

০৯. ইমাম অথবা উনার প্রতিনিধির জন্য জরুরী যেন মহিলাদেরকে জামায়াতের জন্য মসজিদে আসতে নিষেধ করে। হযরত মাযহার (রাহ.) বলেন, যদিও হাদীছ শরীফ দ্বারা মহিলাদের (প্রথম যুগে) মসজিদে যাওয়া প্রমাণিত কিন্তু আমাদের সময়ে তা মাকরূহ তাহরীমী, (কেননা) যুবতী ও বৃদ্ধা মহিলাদের যে কোন নামাযের জন্য মসজিদে যাওয়া নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। (সুনানে নাসাই শরহে ইমামুস সুয়ুতী ২য় জিলদ, পৃষ্ঠা- ২৮২, মিরকাত শরহে মিশকাত ৩য় জিলদ, পৃষ্ঠা- ৫৭৬৭)

১০. বর্তমান সময়ে মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী, সময়ের পরিবর্তনের কারণে। মহিলাদের সর্ব অবস্থায় পর্দায় (ঘরে) থাকা সর্বোত্তম। (আশয়্যাতুল লুময়াত শরহে মিশকাত ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৪৬২, মুযাহিরে হক্ব, লুমায়াত শরহে মিশকাত)

১১. জুমহুর উলামায়ে কিরামদের নিকট যুবতী মহিলাদের যেমনিভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জন্য মসজিদে যাওয়া নিষিদ্ধ, তদ্রূপ জুময়া ও ঈদাইনে ও নিষিদ্ধ, কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, তোমরা মহিলাগণ ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাক। শুধু তাই নয়, তাদের বের হওয়ার মধ্যে ফিৎনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উলামায়ে মুতাআখখেরীনগণের ফতওয়া হলো মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া নাযায়েজ (হোক যুবতী অথবা বৃদ্ধা)। (দরসে তিরমিযী ২য় জিলদ, পৃষ্ঠা-৩২১, মায়ারিফে সুনান ৪র্থ জিলদ, পৃষ্ঠা-৪৪৫)

১২. যুবতী মহিলাদের জামায়াতে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী। উলামায়ে মুতাআখখেরীনগণের ফতওয়া হলো বৃদ্ধাদেরও যুবতী মহিলাদের ন্যায় মসজিদে যাওয়া নিষিদ্ধ যে কোন নামাযেই হোক না কেন। (আওযাযুল মাসালিক শরহে মুয়াত্বায়ে মালিক ৪র্থ জিলদ, পৃষ্ঠা-১০৬, আল বুরহান, নাইলুল মায়ারিব, শরহুল কবীর, আত্তাওশীহ)

১৩. উপরোক্ত হাদীস দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে ঘরে নামায পড়া সর্বোত্তম। (কেননা) মহিলাদের (যুবতী) জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী। আর উলামায়ে মুতাআখখেরীনদের ফতওয়া হলো বৃদ্ধাদের জন্যও রাত্রে হোক অথবা দিনে মসজিদে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী। (ইলাউস সুনান ৪র্থ জিলদ, পৃষ্ঠা-২৪১, মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ)

১৪. মহিলাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায, জুময়া ও ঈদের নামাযের জামায়াতে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ তাহরীমী, যদিও প্রাপ্তা বয়স্কা ও বৃদ্ধা হোক সময়ের পরিবর্তনের কারণে। তাই উলামায়ে মুতাআখখেরীনগণ ফতওয়া দেন যে, মহিলাদের জামায়াতে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ তাহরীমী। (গায়াতুল আওতার ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-২৬৩, তাহতাবী, শামী, রদ্দুল মোহতার ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৫২৯, শরহে তানবীর)

১৫. যুবতী মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী, বৃদ্ধাদের কোন নিষেধ নেই। কিন্তু বর্তমানে পরবর্তী আলেমদের ফতওয়া মুতাবিক যুবতী ও বৃদ্ধা উভয়ের জন্য যে কোন নামাযে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ তাহরীমী। (হেদায়া মায়াদ দেরায়া ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-১২৬, মাবসূত লিসসারাখসী ২য় জিলদ, পৃষ্ঠা-৪১, ফতহুল কাদীর ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৩১৭, নেহায়া, এনায়া, কিফাইয়া ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৩১৭, নূরুল হেদায়া ১মজিলদ, পৃষ্ঠা-১০১)

১৬. প্রাপ্তা বয়স্কা মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী এবং মুতাআখখেরীনদের মত হলো বৃদ্ধাদেরও যে কোন সময় যে কোন নামাযে উপস্থিত হওয়া নিষেধ। (আইনুল হেদায়া ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৪৫৮, কাফী, তাবয়ীন, ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-১৩২)

১৭. মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, মহিলাগণ তোমরা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মহিলাদের মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে ঘরের বারান্দায় নামায পড়া উত্তম এবং ঘরের বারান্দায় নামায পড়ার চেয়ে ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠে নামায পড়া সর্বোত্তম। তাই মহিলাগণ জামায়াতে উপস্থিত হবে না, প্রাপ্তা বয়স্কা হোক অথবা বৃদ্ধা, রাত্রে হোক অথবা দিনে, কারণ সাধারণতঃ তাদের বের হওয়া ফিৎনার থেকে নিরাপদ নয়। তাই পরবর্তি ফকীহদের ফতওয়া হলো প্রাপ্তা বয়স্কা হোক অথবা বৃদ্ধা প্রত্যেক নামাযে উপস্থিত হওয়াই মাকরূহ তাহরীমী। (বাহরুর রায়েক শরহে কানজুদ দাক্বায়েক্ব ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৩৫৮, মাদানুল হাকায়েক ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-১৪৩, আহসানুল মাসায়েল পৃষ্ঠা-৩৮, মিনহাতুল খালিক, আল মাজমাউল আনহুর)

১৮. প্রাপ্তা বয়স্কা মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে আসা মাকরূহ তাহরীমী। ফিৎনার আশঙ্কায়। বর্তমান জামানায় ফাসেকী প্রকাশ পাওয়ার কারণে উলামায়ে মুতাআখখেরীনগণ ফতওয়া দেন যে, প্রাপ্তা বয়স্কা হোক অথবা বৃদ্ধা উভয়ের জন্য যে কোন নামাযের জামায়াতে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ তাহরীমী। (আল জাওহারাতুন নাইয়্যারাহ পৃষ্ঠা-৭৮, মারাকিউল ফালাহ পৃষ্ঠা-২০৫, মুহীত্ব, কুদূরী পৃষ্ঠা-৩৬)

১৯. (আলোচিত) উপরোক্ত কারণে পরবর্তী ফকীহগণ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ফতওয়া দেন যে, মহিলাদের পাঁচ ওয়াক্ত, জুময়া, ঈদসহ যে কোন নামাযের জামায়াতে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ তাহরীমী। এ ফতওয়া সকল স্থানের জন্যই প্রযোজ্য অর্থাৎ চাই হেরেম শরীফ-এ হোক অথবা মসজিদে নববীতে। হিন্দুস্থানে হোক অথবা আরব দেশে সকল স্থানেই মাকরূহ তাহরীমী। (ফতওয়ায়ে রহীমিয়াহ ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-১৭৩, ফতওয়ায়ে নঈমিয়াহ পৃষ্ঠা-৩৫, তরীকুল ইসলাম ৭ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৩৩)

২০. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় মহিলাদের মসজিদে আসা এবং পরবর্তীতে তা নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়া হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। এর প্রতি দুররুল মুখতার কিতাবে ইঙ্গিত রয়েছে। (আযীযুল ফতওয়া ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-২১৩, ফতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ৩য় জিলদ, পৃষ্ঠা-৪৯, মাশারিকুল আনওয়ার পৃষ্ঠা-১৩৭, ইমদাদুল আহকাম ১ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৪২৫)

২১. (প্রাপ্তা বয়স্কা) মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। বৃদ্ধা মহিলাদের রাত্রে হলেও জামায়াতে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী। (আহসানুল ফতওয়া ৩য় জিলদ, পৃষ্ঠা-২৮৩, কিফায়াতুল মুফতী ৩য় জিলদ, পৃষ্ঠা-২৪৪, বেহেস্তী জিওর ৭ম জিলদ, পৃষ্ঠা-২৯)

২২. বর্তমান যামানার ফতওয়া হলো মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া নিষিদ্ধ, যদিও বৃদ্ধা হোক না কেন। রাত্রে হোক অথবা দিনে (প্রত্যেক অবস্থায়ই) ফিৎনার আশঙ্কায় মাকরূহ তাহরীমী। (ফতওয়ায়ে মাহমূদিয়াহ্ ২য় জিলদ, পৃষ্ঠা-২৩৯)

সুতরাং যেখানে বিশ্বের প্রসিদ্ধ মুজতাহিদ, অসংখ্য ইমাম, অগণিত ফেকাহ বিশারদগণ মহিলাদের মসজিদে যাওয়া নাজায়িয অর্থাৎ মাকরূহ তাহরীমী ফতওয়া দেন, সেখানে এর বিরোধিতা করে এটাকে জায়িয বলা গুমরাহী ছাড়া কিছুই নয়। আর এদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনার কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ ফরমান, “যে কারো নিকট হেদায়েত বিকশিত হবার পর রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণ করবে, আর মুমিনদের পথ রেখে ভিন্ন পথের অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরাবো যেদিকে সে ফিরেছে।” শায়খ হযরত আহমদ ইবনে আবু সাঈদ মোল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন, “এ আয়াতে মুমিনদের বিরোধীতাকে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিরোধীতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অতএব রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ‘হাদীস শরীফ’ এর মতো তাদের ইজমাও অকাট্য ও প্রামান্য দলীল বলে পরিগণিত হবে। অপর হাদীসে আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “আমার উম্মত কখনও গোমরাহীতে একমত হবেনা।” আর আমরা দেখি এখানে সমগ্র পৃথিবীর জমহুর উলামা ও মুজতাহিদগণ একমত হয়ে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক রায় দিয়েছেন। এজন্য অকাট্য ভাবে বলা যায় যে, তারে এ রায় বা ঐক্যমত হওয়া হকের পক্ষে। তা্ই গুটি কয়েক লা মাজহাবীদের বিরোদ্ধাচরণ বা অপব্যাখার কারণে উম্মতে মুহাম্মদী পথভ্রষ্ট হবেনা, ইনশা আল্লাহ।

অতএব সহীহ হাদীস এবং ফিক্বহের দৃষ্টিতে প্রমাণীত ও সু-সাব্যস্ত হল যে, মহিলাদের জন্য মসজিদে যাওয়া ও জামাতে নামাজ আদায় করা মাকরুহে তাহরিমী। আল্লাহ পাক আমাদেরকে কবুল করুন, আমীন।