ইসলামের কন্ঠইসলামের কন্ঠ
সম্পাদকীয়আর্কাইভআমাদের পরিচিতিলেখা পাঠানোর নিয়মাবলীযোগাযোগের মাধ্যম
হাদীস শরীফ

জানাজার নামাজ পর দোয়া করার হাদিস ও ফাতাওয়া

জানাজার নামাজের পরে দোয়া করা বিশেষ জরুরি কোনো বিষয় নয়। জানাজার নামাজের পর দোয়া করাই লাগবে বিষয়টি কোনোভাবেই এরকম নয়। জানাজা একদিকে যেমন নামাজ ঠিক তেমনি দোয়াও বটে। তবে দোয়া বা নামাজ যাই হোক না কেনো, নামাজ পড়ার পর যদি কেউ আবার দোয়া করতে চায় তাহলে এখানে সমস্যার কিছু নাই এবং গোনাহও হবে না। আমরা অনেকে জানাজা এটি নামাজ নাকি দোয়া তা নিয়ে ঝগড়া করি অথচ এটি নামাজ নাকি দোয়া উভয়টির পক্ষে কথা আছে। যেমন যারা নামাজ বলেন, তাদের কথাও সঠিক কারণ ফিকহের কিতাব বা হাদিসের কিতাবে الصلاة على الجنازة নামে বাব তৈরি করা হয়েছে এবং অন্যান্য নামাজের মত জানাজার নামাজও তাকবির দিয়ে শুরু ও সালাম দিয়ে শেষ হয়।

ইসলামের কন্ঠ
জানাজার নামাজ পর দোয়া করার হাদিস ও ফাতাওয়া

জানাজার নামাজের পরে দোয়া করা বিশেষ জরুরি কোনো বিষয় নয়। জানাজার নামাজের পর দোয়া করাই লাগবে বিষয়টি কোনোভাবেই এরকম নয়। জানাজা একদিকে যেমন নামাজ ঠিক তেমনি দোয়াও বটে। তবে দোয়া বা নামাজ যাই হোক না কেনো, নামাজ পড়ার পর যদি কেউ আবার দোয়া করতে চায় তাহলে এখানে সমস্যার কিছু নাই এবং গোনাহও হবে না। আমরা অনেকে জানাজা এটি নামাজ নাকি দোয়া তা নিয়ে ঝগড়া করি অথচ এটি নামাজ নাকি দোয়া উভয়টির পক্ষে কথা আছে। যেমন যারা নামাজ বলেন, তাদের কথাও সঠিক কারণ ফিকহের কিতাব বা হাদিসের কিতাবে الصلاة على الجنازة নামে বাব তৈরি করা হয়েছে এবং অন্যান্য নামাজের মত জানাজার নামাজও তাকবির দিয়ে শুরু ও সালাম দিয়ে শেষ হয়। পাশাপাশি যারা জানাজাকে নামাজ নয় বরং দোয়া বলেন তাদের পক্ষেও দলিল আছে। যেমন আলাউদ্দিন কাসানি রাহিঃ বলেন -

وَكَذَا الصَّحَابَةُ صَلَّوْا عَلَى النَّبِيِّ ﷺ جَمَاعَةً بَعْدَ جَمَاعَةٍ؛ وَلِأَنَّهَا دُعَاءٌ، وَلَا بَأْسَ بِتَكْرَارِ الدُّعَاءِ

(ইমাম শাফেয়ী রাহিঃ বলেন) একইভাবে, সাহাবিগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য জামাতের পর জামাতে করেছেন, কেননা যানাজাই একটি দুআ এবং দুআ পুনরাবৃত্তি করায় কোনো দোষ নেই। (বাদাইয়ুস সানাই ১\৩১১)

সুতরাং নামাজ হোক আর দোয়া হোক আমরা ইমাম শাফেয়ী রাহিঃ এর বক্তব্য থেকে দেখলাম যে, একবার দোয়া করার পর আবার দোয়া করা যায়। যেমন তিনি বলেছেন- وَلَا بَأْسَ بِتَكْرَارِ الدُّعَاءِ দুআ পুনরাবৃত্তি করায় কোন দোষ নেই।

কিন্তু আমরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে একদলে আরেক দলের আমলের বিপরীতে এমন শক্ত ভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকি মনে হয় দুই দলের একদল মুসলিম আর অন্য দল অমুসলিম। এছাড়া মনে হয় ফরজ কোনো আমল নিয়ে আমরা লড়াই করছি। অথচ যারা আমলটি করতে চায় তারা এটাকে আবশ্যক মনে করে আমলটি করে না বরং জায়েজ বা ভালো কাজ মনে করে জানাজার নামাজ পর দোয়া করতে চায়। যেখানে জানাজার নামাজ পর দোয়া হয় সেখানে তারা দোয়া করে আর যেখানে হয় না সেখানে তারা দোয়া করে না। তবে আমরা যারা জানাজার নামাজ পর দোয়ার আমল করি আমাদের এই কাজটি ভিত্তি ছাড়া বা মনগড়াও বলতে পারবেন না কারণ এ সম্পর্কে অনেক হাদিস পাওয়া। যার মধ্যে কিছু রাসুল সাঃ এর আমল এবং কিছু সাহাবিদের আমল। এছাড়া যদি হাদিস ছাড়াও জানাজার নামাজ পর দোয়া করা হয় তবে সেটাও তো আর খারাপ কাজ নয় । সাধারণত আম ভাবে দোয়া করা নিয়ে অসংখ হাদিস আছে। জানাজার নামাজ পর অনেক মানুষ আছে যারা কবরে যাবে না বরং জানাজার নামাজ পরেই তারা কবরে না গিয়ে তারা নিজ নিজ বাসায় চলে যাবে অতএব যদি এই মানুষগুলোকে নিয়ে একটু দোয়া করা হয় তাহলে তা তো আর হারাম বা বিদআত হবে না এবং হওয়ার প্রশ্নও আসে না। দোয়া ত আর নির্ধারিত জায়গার বাহিরে করা যাবে না বলে কোনো নিষেধ পাওয়া যায় না। যারা জানাজার নামাজ পর দোয়া করে তারা ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নতে মুআক্কাদা হিসেবে করে না বরং মোস্তাহাব বা সুন্নতে যায়েদা অথবা জায়েজ হিসেবে কাজটি করে। জানাজার নামাজের পর রাসূল সাঃ দোয়া করেছেন এছাড়া সাহাবীকে দোয়ার জন্য আদেশ করেছেন। পাশাপাশি অনেক সাহাবী দাফনের আগে জানাযার নামাজের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করেছেন। যার প্রমাণ বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়। যদিও হাদিসের মান নিয়ে কিছু কিছু দুর্বলতা আছে আবার কিছু হাদিসের সবলতাও আছে কিন্তু দুর্বলতা থাকলেও আমলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিস দিয়ে আমল করা যায়। নিম্নে আমরা দলিলের আলোকে দেখার চেষ্ঠা করবো যে, রাসুল সাঃ ও সাহাবিরা কখনো দোয়া করছেন কিনা!

জানাজার নামাজ পর রাসুল সাঃ এর দোয়া ---

১. রাসুল সাঃ সরাসরি নিজে দোয়া করেছেন জানাজার নামাজ পর।

ক. যেমন-

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ عِمَارَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ قَالَ: «لَمَّا الْتَقَى النَّاسُ بِمُؤْتَةَ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَكُشِفَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الشَّامِ فَهُوَ يَنْظُرُ إِلَى مَعْرَكَتِهِمْ فَقَالَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ: أَخَذَ الرَّايَةَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ فَمَضَى حَتَّى اسْتُشْهِدَ، وَصَلَّى عَلَيْهِ وَدَعَا لَهُ، وَقَالَ: اسْتَغْفِرُوا لَهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ وَهُوَ يَسْعَى، ثُمَّ أَخَذَ الرَّايَةَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَمَضَى حَتَّى اسْتُشْهِدَ وَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَدَعَا لَهُ، اسْتَغْفِرُوا لَهُ، دَخَلَ الْجَنَّةَ فَهُوَ يَطِيرُ مِنْهَا بِجَنَاحَيْنِ حَيْثُ شَاءَ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর রাঃ বলেন যখন মুসলমানগণ মুতার যুদ্ধে লিপ্ত, তখন নবী পাক (ﷺ) মিম্বরে বসলেন। ফলে প্রিয় নবীজি (ﷺ) ও শাম দেশের মাঝে দৃশ্যমান করে দেওয়া হল ফলে তিনি স্বচক্ষে যুদ্ধ ক্ষেত্র দেখতে লাগলেন। প্রিয় নবী (ﷺ) বলেন যায়েদ ইবনে হারেছা পতাকা হাতে নিয়েছেন অত:পর শহীদ হয়েছেন। আল্লাহর নবী (ﷺ) তাঁর জানাযার নামাজ আদায় করলেন ও দোয়া করলেন এবং বললেন তোমরা তাঁর জন্যে মাগফেরাত কামনা করো। কারণ সে জান্নাতে প্রবেশ করে ছুটাছুটি করছে। অত:পর হযরত জাফর ইবনে আবু তালেব পতাকা হাঁতে নিয়েছেন অত:পর সেও শহীদ হয়েছেন। প্রিয় নবীজি (ﷺ) তাঁর জানাযা আদায় করলেন ও দোয়া করলেন এবং বললেন তোমরা তাঁর জন্যে মাগফেরাত কামনা করো। (মিরকাত ৩\১১৯৬, ফাতহুল কাদির ২\১১৭, উমদাতুল ক্বারি ৮\২২)

হাদিস সম্পর্কে প্রায়ই মুহাদ্দিস (যেমন মুল্লা আলি ক্বারী, বাদরুদ্দিন আইনি, যায়লায়ি রাহিঃ) বলেছেন হাদিসটি মুরসাল। যেমন-

وهو مرسل من الطريقين المذكورين

উল্লেখিত দুটি সুত্রেই হাদিসটি মুরসাল।

মুরসাল হাদিসের হুকুম -

মুরসাল হাদিসের হুকুম নিয়ে এখতেলাফ আছে তবে ইমাম আবু হানিফার নিকট মুরসাল হাদিস গ্রহযোগ্য। যেমন-

من القرن الثاني والثالث كذلك عندنا أي مقبول عند الحنفية

আর আমাদের নিকট দ্বিতীয় এবং তৃতীয় যুগের مرسل ও অনুরুপ গ্রহণযোগ্য অর্থাৎ হানাফীদের কাছে গ্রহণযোগ্য। (নুরুল আনওয়ার ১২৪পৃ) যদিও আবার কেউ কেউ বলেছেন মুরসাল হাদিস গ্রহনযোগ্য নয়। আবার কেউ কেউ শর্ত যোগ করেছেন।

মুল্লা আলী ক্বারী রাহিঃ বলেন, সনদের দিক থেকে হাদিসটি দ্বয়িফ। যেমন তাঁর বক্তব্য হলো-

وَمَا فِي الطَّبَقَاتِ ضَعِيفٌ بِالْعَلَاءِ

স্তরসমুহে উচ্চতর পর্যায়ে হাদিসটি দ্বয়িফ। (মিরকাত ৩\১১৯৬)

খ.

قَالَ الْوَاقِدِيُّ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَمَّا قُتِلَ زَيْدٌ أَخَذَ الرَّايَةَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَجَاءَهُ الشَّيْطَانُ فَحَبَّبَ إِلَيْهِ الْحَيَاةَ وَكَرَّهَ إِلَيْهِ الْمَوْتَ وَمَنَّاهُ الدُّنْيَا فَقَالَ: الْآنَ حِينَ اسْتَحْكَمَ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ تُمَنِّينِي الدُّنْيَا ثُمَّ مَضَى قُدُمًا حَتَّى اسْتُشْهِدَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَدَعَا لَهُ وَقَالَ اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ فَإِنَّهُ شَهِيدٌ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَهُوَ يَطِيرُ فِي الْجَنَّةِ بِجَنَاحَيْنِ مِنْ يَاقُوتٍ حَيْثُ يَشَاءُ مِنَ الْجَنَّةِ

আল-ওয়াকিদী বলেন- মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আমাকে আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদার সূত্রে বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যখন যায়েদ নিহত হন, তখন জাফর ইবনে আবি তালিব পতাকা তুলে নেন। তারপর শয়তান তার কাছে আসে এবং তাকে জীবনকে ভালোবাসতে, মৃত্যুকে ঘৃণা করতে এবং দুনিয়া কামনা করতে বাধ্য করে। সে বলে এখন বিশ্বাস মুমিনদের হৃদয়ে শিকড় গেড়েছে, তোমরা আমার জন্য দুনিয়া কামনা করো। তারপর সে এগিয়ে গেল যতক্ষণ না সে শহীদ হয়ে গেল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য নামাজ পড়লেন এবং তার জন্য দু'আ করলেন এবং বললেন, তোমার ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, কারণ সে একজন শহীদ যে জান্নাতে প্রবেশ করেছে এবং জান্নাতে রুবি রঙের দুটি ডানা নিয়ে যেখানে ইচ্ছা উড়ছে। (দালাইলুন নাবুওয়াত ৪\২৮২ মুল কিতাব )

হাদিসের মান - দ্বয়িফ
সুত্র: ঐ কিতাবের তাখরিজ।
(দারুল হাদিস আল কাহেরা মিশর।)

সারমর্মঃ

রাসুল নিজে জানাজার নামাজ পড়লেন এরপর তিনি দোয়া করলেন এবং সাহাবীদেরকেও বললেন যে তোমরাও দুয়া করো সুতরাং এখান থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, রাসূল নিজে দোয়া করেছেন জানাযার নামাজ পর। যদিও রাসুল সাঃ দূর থেকে জানাজার নামাজ পড়েছেন এবং দোয়া করেছে কিন্তু জানাজার নামাজ পডার পর দোয়া তো করেছেন। পাশাপাশি অনেকে বলতে পারেন যে, এই গায়েবানা জানাজা রাসুল সাঃ এর জন্য খাস ছিলো তাই এটা খাস কিন্তু আমরা বলবো যদিও অনেক ফকিহ খাস বলেছেন আবার কোনো কোনো ফকিহ খাস না করে বরং ঐ হাদিস দিয়ে জানাজার নামাজ গায়েবানা পড়ার পক্ষেও বলেছেন কিন্তু দোয়াও যে খাস ছিলো তা কিন্তু কোনো ফকিহ বা মুহাদ্দিস বলেন নি। তাই নামাজ খাস হোক আর আম হোক দোয়া মুতলাকান অর্থাৎ শর্তহীন। তাই জানাজার নামাজের পর দোয়া করা রাসুল সাঃ থেকে প্রমানিত।

জানাজার নামাজ পর দোয়া করতে রাসুল সাঃ এর আদেশ -

২. রাসুল সাঃ দোয়া করতে আদেশ করেছেন -

যেমন-

أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ فَلَمَّا فَرَغَ جَاءَ عُمَرُ وَمَعَهُ قَوْمٌ فَأَرَادَ أَنْ يُصَلِّيَ ثَانِيًا، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ: ﷺ الصَّلَاةُ عَلَى الْجِنَازَةِ لَا تُعَادُ، وَلَكِنْ اُدْعُ لِلْمَيِّتِ وَاسْتَغْفِرْ لَهُ

নিশ্চয় রাসুল (ﷺ) এক জানাযার নামাজ আদায় করলেন। যখন তিনি নামাজ থেকে বের হলেন তখন হযরত উমর রাঃ এক দল মানুষ নিয়ে আসলেন এবং পুনরায় নামাজ আদায়ের ইচ্ছা পোষণ করলেন। প্রিয় নবীজি (ﷺ) বললেন জানাযা দ্বিতীয়বার নেই, তবে মৃতের জন্যে দোয়া-ইস্তেগফার করতে পারে। (বাদাইয়ুস সানাই ১\৩১১, আল মুহিতুল বুরহানি ২\২১০)

(হানাফি মাজহাবের বড় বড় ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমাম এই হাদিস দিয়ে দলিল দেন যে, আমাদের হানাফি মাজহাবে জানাজার নামাজ দ্বিতীয় বার পড়া যাবে না।)

যদি হাদিসটি অগ্রহযোগ্য হত তাহলে ফকিহ গন হাদিসটি দিয়ে দলিল দিতেন না।

যেমন ফকিহগন এরকম বলেছেন-

ক. وَلَنَا مَا رُوِيَ "আমাদের (হানাফিদের) নিকট দলিল হচ্ছে যা বর্ণিত হয়েছে" এই বলে পরে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। (বাদাইয়ুস সানাই ১\৩১১)

খ. وعلماؤنا رحمهم الله احتجوا بما আমাদের (হানাফি) আলেমগন এগুলো দিয়ে দলিল দিয়েছেন। (আল মুহিতুল বুরহানি ২\২০১)

এছাড়া একটি উসুল আছে-

কোন মুজতাহিদ কোন হাদীসকে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করে থাকলে সেটি হাদীসটির সহীহ হওয়ার একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।

আল্লামা ইবনে হুমাম আত-তাহরীরে উল্লেখ করেছেন-

ان المجتهد إذا استدل بحديث كان تصحيحا له

কোন মুজতাহিদ যখন কোন হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন তখন হাদীসটিকে সহীহ বলে গণ্য করার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়ে যায়।
(ফতোওয়া শামি ৪\৫৫৩)

সারমর্মঃ

উক্ত হাদিস থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে, সাহাবী একদল মানুষ নিয়ে তিনি মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজের পর দোয়া করেছেন এবং এই দোয়া করার জন্য রাসূল আদেশ করেছেন। যেখানে সাহাবী দোয়া করেছেন একদল মানুষ নিয়ে, সেখানে যদি আমরা মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করি তাহলে এটা নাজায়েজ হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না বরং এটা জায়েজ বা করা যাবে এটা প্রমাণিত হয়। যদিও জানাযার নামাজ না আদায় করে শুধু দোয়া করেছেন কিন্তু দোয়া তো করছেন! জানাজার নামাজ পর। অনেকে বলতে পারে যে, তারা নামাজ পড়তে পারেন নি বা শরিক হতে পারেন নি তাই রাসুল সাঃ দোয়া করতে বলছেন কিন্তু আমরা দেখি তারা নামাজ পড়ুক বা নাই পড়ুক কিন্তু নামাজের পর দাফনের পুর্বে দোয়া ঠিকই করেছেন। যদি জানাজার নামাজ পর দোয়া করা নাজায়েজ হতো বা নিষেধ থাকতো তবে রাসুল সাঃ দোয়া করতে পরামর্শ দিতেন না। তাই দোয়া করা যাবে এবং উপকার হবে।

জানাজার নামাজ পর অনেক সাহাবায়ে কেরাম রাঃ দোয়া করেছেন। যেমন-

৩. হযরত আবু হুরায়রা রাঃ দোয়া করেন-

যেমন-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ صَلَّى عَلَى الْمَنْفُوسِ، ثُمَّ قَالَ اللهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ হতে বর্ণিত, নিশ্চয় তিনি এক (সদ্য জন্ম হওয়া) জানাযার নামাজ আদায় করলেন, তারপর তাঁর জন্য দোয়া করলেন এই বলে যে, হে আল্লাহ! তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করো। (সুনানুল কোবরা লিল বায়হাকি ৪\১৪) এছাড়া বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয় অন্য একটি হাদিস দিয়ে। যেমন-

حَدَّثَنَا ابْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: ثنا وَهْبٌ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ صَلَّى عَلَى مَنْفُوسٍ لَمْ يَعْمَلْ خَطِيئَةً قَطُّ , فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «اللهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

সাইদ ইবনে মুসাইয়াব বলেন আমি দেখলাম হযরত আবু হুরায়রা রাঃ এক (সদ্য জন্ম হওয়া শিশুর) জানাযার নামাজ আদায় করলেন যার এখনো কোনো গোনাহ নাই। অতপর নামাজ শেষে আমি শুনলাম যে, তিনি দোয়া করলেন এই বলে যে, হে আল্লাহ! তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা। (শরহে মাআনিল আছার ১\৫০৯)

সারমর্মঃ

যদি আবু হুরায়রা রাঃ পাপ থেকে মুক্ত একটি ছোট বাচ্চার জন্য যদি জানাজার নামাজের পর দোয়া করতে পারেন তাহলে আমরা কেনো পাপে ভরপুর ব্যাক্তির জন্য দোয়া করতে পারবো না। অনেকে হয়তো বলতে পারেন এটা নামাজের মধ্যের দোয়া কিন্তু আমরা শব্দের দিকে খেয়াল করলে দেখি ثم শব্দ দিয়ে জানাজার নামাজ পড়ার পর দোয়ার কথা বলা হয়েছে। কারণ ثم শব্দটি আসে যেমন ثم للتراخي অর্থাৎ ছুম্মা বর্ণটি বিলম্ভ অর্থে ব্যবহার হয়। (উসুলুশ শাশী) নামাজ পড়া হয়েছে এর পর দোয়া করা হয়েছে, এভাবে। সুতরাং আমরাও দোয়া করতে পারবো।

৪. হযরত আলি রাঃ দোয়া করেছেন-

যেমন-

عَنِ الْمُسْتَظِلِّ، أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ صَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ بَعْدَ مَا صُلِّيَ عَلَيْهَا

হযরত মুস্তাজিল ইবনে হুছাইন বর্ণনা করেন, নিশ্চয় আলী রাঃ এক জানাযার নামাজ আদায় করেন অত:পর আবার তার জন্যে দোয়া করেন। (সুনানুল কোবরা লিল বায়হাকি ৪\৭৪)

সারমর্মঃ

জানাজার নামাজ দুই বার পড়া যায় না। যা উপরে হযরত উমর রাঃ এর হাদিস থেকে দেখা গেছে যে, রাসুল সাঃ ২য় বার জানাজার নামাজ পড়তে বারণ করে দোয়া করতে আদেশ দিয়েছেন। তাই এখানে صلى শব্দ দ্বারা দোয়ার কথাই বুঝানো হয়েছে। সুতরাং আলি রাঃ এর আমল থেকে প্রমানিত হয় দোয়া করা হয়েছে। তাই আমরাও দোয়া করতে পারবো।

৫. হযরত আবু মুসা রাঃ দোয়া করেছেন-

যেমন-

عَنْ خيثمة أن أبا مُوسَى صلى على الحارث بعد ما صُلي عليه

হযরত হায়ছামা রাঃ বর্ণনা করেন, নিশ্চয় হযরত আবু মূছা রাঃ হারেছ ইবনে কায়েছ আল জুফিয়ীর জানাযার নামাজ আদায় করলেন, পরে আবার তাঁর জন্যে দোয়া করেন। (তারিখুল কাবির ২\২৭৯)

সারমর্মঃ

জানাজার নামাজ দুই বার পড়া যায় না। যা উপরে হযরত উমর রাঃ এর হাদিস থেকে দেখা গেছে যে, রাসুল সাঃ ২য় বার জানাজার নামাজ পড়তে বারণ করে দোয়া করতে আদেশ দিয়েছেন। তাই এখানে صلى শব্দ দ্বারা দোয়ার কথাই বুঝানো হয়েছে। সুতরাং আবু মুসা রাঃ এর আমল থেকেও প্রমানিত হয় জানাজার নামাজ পর দোয়া করা হয়েছে। তাই আমরাও দোয়া করতে পারবো।

৬. হযরত উমর রাঃ দোয়া করেছেন-

যেমন-

وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - فَاتَتْهُ الصَّلَاةُ عَلَى جِنَازَةِ عُمَرَ فَلَمَّا حَضَرَ قَالَ: إنْ سَبَقْتُمُونِي بِالصَّلَاةِ عَلَيْهِ فَلَا تَسْبِقُونِي بِالدُّعَاءِ لَهُ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ছালাম রাঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: হযরত উমর রাঃ এর জানাযার নামাজ তাঁর ছুটে যায়। যখন তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন তখন সাহাবীদের ডেকে বললেন: তোমরা নামাজের ব্যাপারে আমার অগ্রগামী হয়েছ, কিন্তু দোয়ার ব্যাপারে অগ্রগামী হয়োনা। (আল মাবসুত ২\৬৭)

সারমর্মঃ

এ হাদিস থেকেও এটা প্রমানিত হয় যে, সাহাবীরা হযরত উমর রাঃ কে রেখে জানাজার নামাজ পড়ে অগ্রগামী হয়ে গেছেন কিন্তু হযরত উমর রাঃ কে রেখে দোয়া করে অগ্রগামী হতে পারেন নি বরং তিনি তাদের সাথে দোয়ায় শরিক হয়ে অগ্রগামী হয়েছেন। দোয়ায় অগ্রগামী হয়ো না দ্বারা বুঝা যায় যে, জানাজার নামাজ পর দোয়া করার সময় আমাকে সাথে রেখো। পাশাপশি এটাও প্রমান হয় যে, জানাজার নামাজ পর দোয়া করা যাবে। তাই জানাজার নামাজ পর দোয়া করতে কোনো অসুবিদা নাই।

৭. ইবনে উমর ও আব্বাস রাঃ দোয়া করেছেন-

যেমন-

وَرُوِيَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ وَابْنَ عُمَرَ - رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ - فَاتَتْهُمَا صَلَاةٌ عَلَى جِنَازَةٍ فَلَمَّا حَضَرَا مَا زَادَا عَلَى الِاسْتِغْفَارِ لَهُ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত আছে উভয়ে এক জানাযায় গিয়ে জানাযার নামায না পেয়ে মায়্যিতের জন্য ইস্তেগফার ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। (বাদাইয়ুস সানাই ১\৩১১)

সারমর্মঃ

এখান থেকেও দেখা যায় জানাজায় হাজির হয়ে নামাজ পড়তে না পেরে দোয়া করেছেন। সুতরাং আমরাও দোয়া করতে পারবো।

৮. আব্দুল্লাহ বিন আউফ রাঃ দোয়া করেছেন-

عَنْ إِبْرَاهِيمَ الْهَجَرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ: تُوُفِّيَتْ بِنْتٌ لَهُ فَتَبِعَهَا عَلَى بَغْلَةٍ يَمْشِي خَلْفَ الْجِنَازَةِ، وَنِسَاءٌ يَرْثِينَهَا، فَقَالَ: يَرْثِينَ، أَوْ لَا يَرْثِينَ، «فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الْمَرَاثِي» . وَلْتُفِضْ إِحْدَاكُنَّ مِنْ عَبْرَتِهَا مَا شَاءَتْ، ثُمَّ «صَلَّى عَلَيْهَا فَكَبَّرَ عَلَيْهَا أَرْبَعًا، ثُمَّ قَامَ بَعْدَ الرَّابِعَةِ قَدْرَ مَا بَيْنَ التَّكْبِيرَتَيْنِ يَسْتَغْفِرُ لَهَا وَيَدْعُو وَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ هَكَذَا هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ

তাবেয়ী হযরত ইব্রাহিম হিজরী রাহিঃ বলেন আমি হযরত আব্দুল্লাহ বিন আওফা রাঃ যিনি বাইতুর রিদওয়ানে উপস্থিত ছিলেন। তার কন্যার ওফাত হলে তিনি তার মেয়ের কফিনের পিছনে একটি খচরের উপর সাওয়ার হয়ে যাচ্ছেন। তখন মহিলারা কান্না করতে ছিলেন। তিনি তাদেরকে বললেন তোমরা মর্সিয়া করো না, যেহেতু হুযুর কান্না করতে নিষেধ করেছেন। তবে তোমাদের মধ্যে যে কেউ চায় অশ্রু ঝরাতে পারবে। এরপর জানাযার নামায চারটি তাকবীরের মধ্যে সম্পন্ন করলেন। চতুর্থ তাকবীরের পর, দুই তাকবীরের মধ্যেখানের সময় পরিমাণ দোয়া করতেছিলেন এবং তিনি (সাহাবী) বললেন অনুরূপ হুযুর জানাযায় করতেন ( হাদিসটি সহিহ )। (মুসতাদরাক ১\৫১২)

সারমর্মঃ

এই হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, সাহাবি জানাজার নামাজ চার তাকবিরের সাথে আদায় করার পর লাশ মাটিতে থাকা অবস্তায় ঐ সাহাবী ২ তাকবিরের সমপরিমান সময় নিয়ে তিনি তাঁর কন্যার জন্য দোয়া করেছেন এবং তিনি বলে দিচ্ছেন যে, রাসুল সাঃ ও এরকম জানাজার নামাজ পর দাফনের পূর্বে দোয়া করতেন। যদি জানাজার নামাজ পর দোয়া করা নাজায়েজ হতো তাহলে কেমনে রাসুল সাঃ ও সাহাবিরা এরকম আমল করলেন।

সুতরাং এ সকল হাদিস থেকে প্রমানিত হয় যে, জানাজার নামাজ পর রাসুল সাঃ ও সাহাবায়ে কেরাম দোয়া করেছেন। তাই জানাজার নামাজ পর দোয়া করাতে কোনো অসুবিধা নাই। জানাজার নামাজ পর দোয়া করা যাবে। জানাজার নামাজ পর দোয়া করা মুস্তাহাব ও সুন্নতে যায়েদা। তবে সর্ব পরি তা সুন্নত এবং মোস্তাহাব প্রমানিত হয়।

অনেকে বলতে পারেন যে সাহাবিরা জানাজার নামাজ আদায় করতে না পারার কারণে তারা পরে দোয়া করেছেন! যদি (যারা এরকম কথা বলে) তাদের কথা সঠিক তবে আগে হোক পরে হোক দোয়া তো করেছে! এটা ত বাস্তব? সুতরাং দোয়া করা হয়েছে জানাজার নামাজ পর এবং তা কবরে রাখার আগেই তাই জানাজার নামাজ পর দোয়া করা যাবে এটাকে দুর্ঘটনা বলার কোনো সুযোগ নাই। এর পরও যদি বলেন যে, না! এটা মানা যাবে না। যেহেতু সাহাবীরা নামাজ না পাওয়ার কারণে দোয়া করেছেন তাই এখনো কেউ যদি নামাজ না পায় তাহলে সে দোয়া করতে পারবে নতুবা করা যাবে না তাহলে আমরাও অনেক প্রশ্ন করতে পারি তার বিপরীতে! যেমন এখানে বিপরীতে আমি একটি যুক্তি দেখাচ্ছি! আপনারা যারা ফরজ নামাজ পর সম্মিলিত দোয়া করার পক্ষে কথা বলেন আপনারা একটি হাদিস দিয়ে দলিল দেন যে, এই দেখেন এই হাদিস থেকে এটা প্রমান হয় যে সম্মিলিত দোয়া করা যাবে। (সুত্র: মাসিক আল কাউসার, বর্ষ: ০৪, সংখ্যা: ০৮ শাবান-রমযান ১৪২৯ - আগস্ট ২০০৮) (যদিও পুরো হাদিসটি পরে উল্লেখ করছি) তাহলে আমি যদি পাল্টা প্রশ্ন করি যে, এটা ত ফরজ নামাজের পর দোয়া করার বিষয়ের হাদিস নয়। তাহলে কি বলবেন? কারণ এটা যুদ্ধে গিয়ে দোয়া করেছেন তাই এটা যুদ্ধে গিয়েই করতে হবে। এখন আবার অনেকে বলতে পারেন যে, সাহাবী রাসুল সাঃ এর (পুর্বের শুনা) মুখের হাদিস বর্ণনা করেছেন যে এরকম "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কিছু মানুষ যখন কোথাও একত্র হয়ে এভাবে দুআ করে যে, একজন দুআ করে এবং অন্যরা আমীন বলে তো আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের দুআ কবুল করেন" এখানে আগে হাদিসটি শুনা হয়েছে তাই যুদ্ধের সময় নয় বরং যে কোনো সময় সম্মিলিত দোয়া করা যাবে! এখন আমি যদি বলি যে, না এটা মানবো না বরং নামাজের পরে করা হয়েছে এরকম একটি দলিল দেন তখন কি পারবেন? দলিল দিতে? যদিও এরকম কথা আমি বলবো না কারণ যদিও নির্ধারিত কোনো স্থানের কথা খাস করা নাই কিন্তু আম ভাবে যে কোনো জায়গায় করা যাবে। আসুন হাদিস টি দেখি-

عَنْ حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ الْفِهْرِيِّ - وَكَانَ مُسْتَجَابًا -: أَنَّهُ أُمِّرَ عَلَى جَيْشٍ فَدَرِبَ الدُّرُوبِ، فَلَمَّا لَقِيَ الْعَدُوَّ قَالَ لِلنَّاسِ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - يَقُولُ: " «لَا يَجْتَمِعُ مَلَأٌ فَيَدْعُو بَعْضُهُمْ وَيُؤَمِّنُ سَائِرُهُمْ، إِلَّا أَجَابَهُمُ اللَّهُ ثُمَّ إِنَّهُ حَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ: اللَّهُمَّ احْقِنْ دِمَاءَنَا، وَاجْعَلْ أُجُورَنَا أُجُورَ الشُّهَدَاءِ، فَبَيْنَا هُمْ عَلَى ذَلِكَ، إِذْ نَزَلَ الْهَنْبَاطُ أَمِيرُ الْعَدُوِّ، فَدَخَلَ عَلَى حَبِيبٍ سُرَادِقَهُ

হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা আলফিহরী রা., যিনি বড় ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ’ ছিলেন, একবার তাকে একটি বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করা হয়। তিনি যুদ্ধের প্রয়োজনীয় প্রস্ত্ততি সমাপ্ত করার পর যখন যুদ্ধের সময় নিকটবর্তী হল তখন সহযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বললেন-

سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : لَا يَجْتَمِعُ مَلَأٌ فَيَدْعُو بَعْضُهُمْ وَيُؤَمِّنُ سَائِرُهُمْ إِلّا أَجَابَهُمُ اللهُ

‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কিছু মানুষ যখন কোথাও একত্র হয়ে এভাবে দুআ করে যে, একজন দুআ করে এবং অন্যরা আমীন বলে তো আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের দুআ কবুল করেন। এর পর তিনি আল্লাহ তাআলার হামদ ও ছানা করলেন এবং দুআ করতে আরম্ভ করলেন। তাঁর দুআর একটি অংশ এই ছিল-

اللّهُمَّ احْقِنْ دِمَاءَنَا وَاجْعَلْ أُجُورَنَا أُجُورَ الشُّهَدَاءِ

‘ইয়া আল্লাহ, আমাদের প্রাণ রক্ষা করুন এবং আমাদেরকে শহীদদের সমতুল্য ছওয়াব দান করুন। তাঁরা সবাই দুআতেই মশগুলে ছিলেন ইতোমধ্যে রোমক বাহিনীর সেনাপতি (অস্ত্র ত্যাগ করে) হাবীব ইবনে মাসলামা রা-এর তাবুতে এসে উপস্থিত হল। (মাজমাউজ যাওয়িদ ১০\১৭০) অতএব যদিও সাহাবীরা জানাজার নামাজে শরিক হতে না পারার কারণে পরে দোয়া করেছেন তবে যেহেতু তারা নামাজে শরিক হোক বা না হোক কিন্তু দোয়া করা হয়েছে তাই দোয়া করাতে কোনো অসুবিধা নাই।

এরপরও সরাসরি রাসুল সাঃ নিজে জানাজার নামাজ পর দোয়া করেছেন তাই এটাকে নাজায়েজ বা বিদআত বলার সুযোগ নাই।

জানাজার নামাজ পর দোয়া করা নিয়ে ফাতাওয়া-

১. হানাফি মাজহাবের কিতাব বাহরুর রায়েকে উল্লেখ করা হয়েছে-

أَنَّهُ لَا يَدْعُو بَعْدَ التَّسْلِيمِ كَمَا فِي الْخُلَاصَةِ وَعَنْ الْفَضْلِيِّ لَا بَأْسَ بِهِ

কেননা (জানাযার) সালামের পরে দোয়া করবেনা যেমনটা খুলাছার মধ্যে রয়েছে এবং ইমাম ফাদ্বলী রাহিঃ হতে বর্ণিত আছে যে, (জানাযার পর দোয়া করাতে) কোনো অসুবিধা নেই। (বাহরুর রায়েক ২\১৯৭)

এখানে ইমাম ফাদ্বলী রাহিঃ বলেন "জানাজার নামাজের পর দোয়া করাতে কোন অসুবিধা নাই"।

এখন প্রশ্ন হলো কে এই ফুদাইল রাহিঃ? কেনই বা তার কথাকে আমরা মেনে নিবো? তার উত্তরে আমরা তাঁর পরিচয় পেলে তাঁর মর্যাদা বুঝতে পারবো। তাঁর পরিচয় নিচে উল্লেখ করা হলো-

هو محمد بن الفضل: أبو بكر الفضلي الكماري: نسبة إلى (كمار) قرية ببخارى. فقيه، مفت. قال اللكنوي: كان إماما كبيرا وشيخا جليلا معتمدا في الرواية مقلدا في الدراية، ومشاهير كتب الفتاوى مشحونة بفتاواه ورواياته، أخذ الفقه عن عبد الله السبذموني، وأبي حفص الصغير وغيرهما. وتفقه عليه القاضي أبو علي الحسين بن الخضر النسفي، والحاكم عبد الرحمن بن محمد الكاتب: وعبد الله الخيزاخزي وغيرهم

আবু বকর ইবনুল ফাদল (মৃ: ৩৮১ হিজরী) তিনি মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল, আবু বকর আল-ফাদল আল-কামারী। বুখারার একটি গ্রামের (কামার) নামানুসারে। তিনি একজন ফকিহ এবং মুফতি ছিলেন। আল-লাকনাউয়ি বলেন, তিনি একজন মহান ইমাম এবং একজন সম্মানিত শায়েখ ছিলেন, বর্ণনায় নির্ভরশীল এবং জ্ঞানে অনুকরণীয় ছিলেন। বিখ্যাত ফতোয়ার গ্রন্থগুলিতে তাঁর ফতোয়া এবং বর্ণনায় পরিপূর্ণ। তিনি আবদুল্লাহ আল-সাবজামুনি, আবু হাফস আল-সাগির এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে ফিকহ শিখেছিলেন এবং ফিকহ শিক্ষা দিয়েছিলেন যাদেরকে তারা হলেন কাজি আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আল-খাজির আল-নাসাফি, হাকিম আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-কাতিব, আবদুল্লাহ আল-খায়জাখজি এবং অন্যান্যদেরকে। (আল মাওসুআতুল ফিকহিয়া আল কুয়েতিয়া ২০\৩৪৯)

এখন এই لا بأس به দ্বারা কি বুঝানো হয়?

ফিকহের একটি উসুল হলো যে, যখন কোনো বিষয়ে لا بأس বলা হয় তখন সেটা মুস্তাহাব অর্থ হয়। যেমন-

১. ফতোওয়ায়ে শামি

لَا بَأْسَ قَدْ تُسْتَعْمَلُ فِي الْمَنْدُوبِ

"লা বায়ছা" শব্দটি মোস্তাহাব অর্থ গ্রহন করে। (ফতোওয়ায়ে শামি ১\১৯)

২. আন নিহায়াতু ফি শারহিল হেদায়া

أنَّ كلمةَ لا بأسَ دليلٌ على أنّ المستحبَّ غيرُه،

"লা বাশছা" শব্দটি প্রমাণ করে যে মুস্তাহাব। (আন নিহায়াতু ফি শারহিল হেদায়া ৫\১৬১)

৩. আল মাওসুআতুল ফিকহিয়া আল কুয়েতিয়া -

لاَ بَأْسَ بِكَذَا دَل عَلَى أَنَّ الْمُسْتَحَبَّ غَيْرُهُ غَالِبًا

"লা বায়ছা" শব্দটি এটা প্রমাণ করে যে, মুস্তাহাব। (আল মাওসুআতুল ফিকহিয়া আল কুয়েতিয়া ৭\১৯৬)

সুতরাং জানাজার নামাজ পর দোয়া করা মুস্তাহাব। যদিও এই একজন ফকিহের একটি মত পাওয়া যায়। এছাড়া এর বাহিরেও কিছু ফকিহ দোয়া না করার জন্য বলেছেন তবে তাদের উদ্দেশ্য হলো যেহেতু নামাজই একটি দোয়া সেহেতু পরে আবার দোয়া করার প্রয়োজন নাই। (এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত লিখা হয়েছে)

২. দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোওয়া।

যেমন-

بعد نماز جنازہ قبل دفن چند مصلیوں کا ایصال ثواب کے لیے سورہ فاتحہ ایک بار اور سورہ اخلاص تین بار آہستہ آواز سے پڑھنا اور امام جنازہ یا کسی نیک آدمی کا دونوں ہاتھ اٹھا کر مختصر دعا کرنا شرعا درست ہے یا نہیں؟

الجواب: اس میں کچھ حرج نہیں ہے، لیکن اس کو رسم کر لینا اور التزام کرنا مثل واجبات کے اس کو بدعت بناوے گا ۔ كما صرح به الفقهاء فقط واللہ تعالیٰ اعلم

জানাজার নামাজের পর দাফনের আগে, ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে মুসল্লির জন্য কি একবার সূরা ফাতিহা এবং তিনবার সূরা ইখলাস নিচু স্বরে পাঠ করা এবং জানাজার নামাজের ইমাম অথবা কোনো নেককার ব্যক্তি উভয় হাত তুলে একটি সংক্ষিপ্ত দুআ করা জায়েজ কিনা?

উত্তর: এতে কোন অসুবিদা নেই, তবে এটিকে একটি রীতিতে পরিণত করা এবং ফরজ কাজের মতো এটি মেনে চলা বিদআত করে তুলবে। যেমনটি ফকীহগণ বলেছেন।

(ফতোওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ ৫\৩৬০)

৩. দাফনের পূর্বে দোয়া করা সুন্নত।

ইমাম আবু হানিফা রাহিঃ এর একটি মত থেকে পাওয়া যায় যে দাফনের পূর্বে দোয়া করা যায় এবং সুন্নত। যদিও বিষয়টিতে জানাজার নামাজের পরের কথা উল্লেখ নেই তবে দাফনের পূর্বে দোয়া করা যাবে তা কিন্তু প্রমানিত হয়। যেমন -

ومن ذلك قول أبي حنيفة إن التعزية سنة قبل الدفن لا بعده ، وبه قال الثوري، مع قول الشافعي وأحمد إنَّها تسن قبله وبعده إلى ثلاثة أيام

এর মধ্যে রয়েছে আবু হানিফা রাহিঃ এর বক্তব্য যে, দাফনের আগে শোক প্রকাশ করা সুন্নত দাফনের পরে নয়। আল-সাওরি একই কথা বলেছেন ইমাম শাফেঈ এবং আহমদের বক্তব্যের সাথে যে, দাফনের আগে এবং পরে তিন দিন ধরে শোক প্রকাশ করা সুন্নত।

একথাটির সামান্য পরে আবার উল্লেখ করা হয়ে যে,

ووجه الأول : أن شدة الحزن إنَّما تكون قبل الدفن ، فيُعزى ويُدعى له بتخفيف الحزن

প্রথম দিক- শোকের তীব্রতা কেবল দাফনের আগে ঘটে। তাই দাফনের পুর্বে দুঃখ কমানোর জন্য শোক প্রকাশ করবে এবং তার জন্য দোয়া করবে। (মিজানুল কোবরা ২\৩৫১)

সুতরাং দাফনের পুর্বে দোয়া করা যায়েজ। দোয়াটি হোক জানাজার নামাজের পর অথবা জানাজার নামাজের পূর্বে তবে দোয়া করা যাবে তা প্রমাণীত।

* যে সকল ফকিহ জানাজার নামাজ পর দোয়া করতে নিষেধ করছেন তাদের কথা দ্বারা বুঝা যায় যে, তাদের উদ্দেশ্য এই নয় যে যানাজার নামাজ পর আবার দোয়া করা গোনাহের কাজ। বরং তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। আসুন দেখে নেওয়া যাক। যেমন

ফতোওয়ায়ে বাজ্জাজিয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে-

لا يقوم بالدعاء بعد صلوة الجنازة لانه دعاء مرة لان اكثرها دعاء

জানাযার নামায পরে দোয়া করার জন্য দাঁড়াবে না কেননা জানাজার নামাজই একটি দোয়া, তাছাড়া জানাযার নামায অধিকাংশই দোয়া। (যদিও আমি সরাসরি এই এবারতটি খুজে পাইনি ঐ কিতাবে কারণ এতটুকু সময় ব্যয় করিনি তবে যারা দোয়ার বিপক্ষে তারা এই এবারতটি উল্লেখ করেন)

এখানে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, দোয়া করা নিষেধ বা দোয়া করলে গোনাহ হবে এ জন্য ফকিহগন নিষেধ করেন নি বরং তারা নিষোধ করছেন এজন্য যে, যেহেতু জানাজার নামাজ দোয়া সেহেতু আবার দোয়া করার প্রয়োজন নাই। কিন্তু আমরা দেখি যে, ইমাম শাফেয়ী রাহিঃ এর একটি মত থেকে পাওয়া যায় যে, দোয়ার পর আবার দোয়া করাতে কোনো সমস্যা নাই। তাই আমরা দোয়া করতেই পারি এতে কোনো নিষেধ নাই।

যদি সরাসরি জানাজার নামাজ পর দোয়া করা নিষেধ এ সম্পর্কিত কোনো হাদিস থাকে বা রাসুল সাঃ এর নিষেধ থাকে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা হতো। কিন্তু এরকম কোনো নিষেধ নাই। নিষেধ থাকলে বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া জরুরি ছিলো কারণ হানাফি মাজহাবের একটি উসুল হলো-

قاعدة إِذَا تَعَارَضَ الْمَانِعُ وَالْمُقْتَضِيْ يُقَدَّمُ الْمَانِعُ

যখন নিষেধাজ্ঞা এবং বৈধতা সাংঘর্ষিক হয়, তখন নিষেধাজ্ঞা প্রাধান্য পায়। (কাওয়ায়িদুল ফিকহ ৫৬) কিন্তু জানাজার নামাজ পর দাফনের পুর্বে দোয়া করা যাবে না এরকম কোনো নিষেধ নাই তাই দাফনের পুর্বে সবাইকে নিয়ে নামাজের পর দোয়া করা যাবে।

তাহলে জানাজার নামাজ পর কিভাবে দোয়া করতে হবে?

উত্তরঃ জানাজার নামাজ পর দোয়া করাকে বাধ্যবাদকতা এবং ফরজ ও ওয়াজিব মনে করা যাবে না। যেহেতু রাসুল সাঃ ও সাহাবায়ে কেরাম সব সময় এরকম আমল করতেন না তাই এই আমলটি সুন্নতে গাইরে মুআক্কাদা হিসেবে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। কারণ সুন্নতে গাইরে মুআক্কাদা আদায় না করলে গোনাহ হয় না। তবে করলে সওয়াব হয়। সুতরাং জায়েজ যা সুন্নত ও সওয়াবের কাজ মনে করে নামাজের পর দোয়া করতে হবে এবং কাতার ভেঙ্গে দোয়া করতে হবে। কাতার ভাঙ্গা নিয়ে মুল্লা আলী ক্বারী রাহিঃ বলেন-

وَلَا يَدْعُو لِلْمَيِّتِ بَعْدَ صَلَاةِ الْجَنَازَةِ لِأَنَّهُ يُشْبِهُ الزِّيَادَةَ فِي صَلَاةِ الْجَنَازَةِ

জানাযার পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেনা, কেননা এতে জানাযার সাথে অতিরিক্ত সাদৃশ্য বুঝায়। (মিরকাত ৩\১২১৩) যদিও দেখা যাচ্ছে মুল্লা আলী ক্বারী রাহিঃ দোয়া করতে নিষেধ করছেন কিন্তু তিনি সাদৃশ্য হওয়ার ভয়ে নিষেধ করেছেন কিন্তু সাদৃশ্য ভেঙ্গে দোয়া করতে নিষেধ করেন নাই। যদি তিনি সরাসরি নিষেধ করতেন যে, জানাজার নামাজ পর দোয়া করা যাবে না তাহলে সাদৃশ্যের কথা বলতেন না। যেমন কাউকে যদি বলি "তুমি ভাত খাবে না যাতে করে অসুস্থ হয়ে যাও" তার মানে খেতে নিষেধ করিনি বরং অসুস্থ যেনো না হয় সেই পরিমান খাবার খেতে হবে। তাই কাতার ভেঙ্গে ফেললে আর তার মত সাদৃশ্য হবে না এবং দোয়াও করা যাবে।

-মুহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ খান
তারিখ- ১৪\১০\২০২৫