সকাল-সন্ধ্যার কিছু মাসনুন জিকির ও দোয়া
আমাদের জীবনের যাবতীয় দুশ্চিন্তা, রিজিকের অভাব, অসুস্থতা কিংবা মানসিক অস্থিরতা—সবকিছুর সমাধান রয়েছে আল্লাহর স্মরণে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: "জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই কলব (মন) শান্ত হয়।" (সূরা আর-রা'দ: ২৮) নিচে সহিহ হাদিস বর্ণিত প্রধান জিকিরগুলো আরবি, শুদ্ধ উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো: ১. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া): সকালে পড়ে সন্ধ্যায় মারা গেলে বা সন্ধ্যায় পড়ে সকালে মারা গেলে সে জান্নাতি। (বুখারী) আরবি: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

আমাদের জীবনের যাবতীয় দুশ্চিন্তা, রিজিকের অভাব, অসুস্থতা কিংবা মানসিক অস্থিরতা—সবকিছুর সমাধান রয়েছে আল্লাহর স্মরণে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: "জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই কলব (মন) শান্ত হয়।" (সূরা আর-রা'দ: ২৮)
নিচে সহিহ হাদিস বর্ণিত প্রধান জিকিরগুলো আরবি, শুদ্ধ উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো:
১. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া): সকালে পড়ে সন্ধ্যায় মারা গেলে বা সন্ধ্যায় পড়ে সকালে মারা গেলে সে জান্নাতি। (বুখারী)
আরবি: اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাকতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘উযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা ওয়া আবূউ লাকা বিযাম্বী ফাগফির লী ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর সাধ্যমতো অটল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমার ওপর তোমার নেয়ামত স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহও স্বীকার করছি। অতএব আমাকে ক্ষমা করো, কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
২. আয়াতুল কুরসী (সুরক্ষার বর্ম): সকাল ও সন্ধ্যায় পড়লে শয়তান ও যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আল্লাহর হেফাজতে থাকা যায়। (নাসায়ী)
আরবি: اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাউম। লাহূ মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ‘ইন্দাহূ ইল্লা বিইযনিহ। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইয়িম্ মিন ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসি‘আ কুরসিইয়ুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল ‘আলিইয়ুল ‘আযীম।
৩. তিন কুল (৩ বার করে): সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩ বার করে পড়লে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ট হয়। (আবু দাউদ)
৪. অনিষ্ট থেকে মুক্তির বিশেষ দোয়া (৩ বার): এটি পড়লে হঠাৎ কোনো বিপদ স্পর্শ করবে না। (তিরমিযী)
আরবি: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّماءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা‘ই ওয়া হুয়াস সামী‘উল ‘আলীম।
অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
৫. তাওয়াক্কুল বা ভরসার দোয়া (৭ বার): দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় দুশ্চিন্তার জন্য এটি যথেষ্ট। (আবু দাউদ)
আরবি: حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুয়া, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম।
অর্থ: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি, আর তিনি মহান আরশের অধিপতি।
৬. ১০০ বার তাসবিহ: আরবি: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।
ফজিলত: সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ থাকলেও তা মাফ হয়ে যায়। (মুসলিম)
💡 আমল করার সময়:
⏱️ সকাল: ফজর নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
⏱️ সন্ধ্যা: আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।
কেন এই আমলটি করবেন?
✅ এটি শয়তানের আক্রমণ থেকে বর্মের মতো কাজ করে।
✅ রিজিকের অভাব দূর করে এবং বরকত বাড়ায়।
✅ মানসিক অশান্তি ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দেয়।
✅ জাদু-টোনা ও নজরে বদ থেকে হেফাজত করে।
-collected
#সকাল_সন্ধ্যার_জিকির