আজ রাতটা বেশ অদ্ভুত। শহরের কোলাহল এখন একদম শান্ত, জানালায় টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ হচ্ছে। এক কাপ লিকার চা হাতে নিয়ে ভাবছিলাম, মানুষের চোখ জিনিসটা আসলে কত বিস্ময়কর!
চোখ: মনের জানালা
চোখ হলো মানুষের মনের জানালা। এই জানালা দিয়ে মানুষ আলো দেখে, পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এই একই জানালা দিয়ে মাঝে মাঝে বিষাক্ত বাতাসও মানুষের মনে প্রবেশ করে। আমাদের চারপাশের সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, পথচলতি নারীদের উত্ত্যক্ত করা বা ইভটিজিংয়ের মতো জঘন্য অপরাধ ছড়িয়ে পড়েছে। যে মানুষটি কাউকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে বা খারাপ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে, তার অপরাধের সূচনা কিন্তু হয় ওই চোখের অনিয়ন্ত্রিত চাহনি থেকেই।
প্রথম দৃষ্টি ও পরের দৃষ্টি
ইসলাম এই সামাজিক ব্যাধি দূর করার জন্য দৃষ্টি সংযমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। হজরত আলী (রা.)-কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন:
فَلا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّمَا لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ
অর্থ: তুমি একবার দৃষ্টি পড়ার পর আবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করো না। কারণ প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য নয়।
প্রথম দৃষ্টি হয়তো অনিচ্ছাকৃত, তাই তাতে পাপ নেই। কিন্তু বারবার তাকিয়ে থাকাটাই অন্তরে কলুষতা তৈরি করে।
ইবলিসের বিষাক্ত তীর
দৃষ্টির এই ধ্বংসাত্মক দিক সম্পর্কে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি উপমা দিয়েছেন:
إِنَّ النَّظْرَةَ سَهْمٌ مِنْ سِهَامِ إِبْلِيسَ مَسْمُومٌ
অর্থ: চোখের কুদৃষ্টি হলো ইবলিসের বিষাক্ত তীরগুলোর একটি।
বিষাক্ত তীর যেমন ধীরে ধীরে রক্তে বিষ ছড়িয়ে দেয়, কুদৃষ্টিও ঠিক তেমনি মানুষের ঈমান ও চরিত্রকে ধ্বংস করে। অথচ আল্লাহর ভয়ে চোখকে সংযত রাখলে অন্তরে এক বিশেষ প্রশান্তি ও ঈমানের স্বাদ অনুভব করা যায়।
সুন্দর চরিত্রই আসল পরিচয়
ইসলাম আমাদের শেখায় যে সুন্দর চরিত্রই একজন প্রকৃত মানুষের আসল পরিচয়। হাদিস শরিফে এসেছে:
وَإِنَّ أَحْسَنَ النَّاسِ إِسْلاَمًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا
অর্থ: নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ইসলামের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম সে-ই, যে তাদের মধ্যে চরিত্রের দিক দিয়ে সবচেয়ে সুন্দর।
আসুন, নিজেদের বদলাই
বৃষ্টির শব্দ এখন ধীরে ধীরে কমে এসেছে। বাইরের ভেজা পথটায় সোডিয়াম আলোর হলুদ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মানুষের জীবন ও মনটাও যদি এই আলোর মতো স্বচ্ছ হতো, তবে কোনো নারীকেই আর অসম্মান বা ভয়ের মুখোমুখি হতে হতো না। আসুন, আমরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করি এবং সমাজকে সবার জন্য নিরাপদ করি।





