আল্লাহর ওলীর সুহবাতের প্রভাব
সুহবাত হলো সঙ্গ লাভ করা। সাথী হওয়া। প্রবাদে আছে, ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’। সৎ সঙ্গের সুহবাতের মাধ্যমে স্বর্গ তথা জান্নাত লাভ হয়। মানুষের সামাজিকীকরণ হয়। মানুষ মহামানব হয়ে যায়। অসৎ সঙ্গের স্পর্শে সোনালী সম্ভাবনাময় জীবন অংকুরে বিনাশ হয়ে যায়। ফুল ফোটার পূর্বে ঝরে যায়। মানুষ জাহান্নামের পথে পরিচালিত হয়। সুহবাত সম্পর্কে কোরআন পাকে ইরশাদ হচ্ছে, ‘ওয়া কুনু মাআ’স সোয়াদিক্বীন’। (সূরা তাওবা:১১৯)। অর্থ: সত্যবাদীদের সাথী হও।

সুহবাত হলো সঙ্গ লাভ করা। সাথী হওয়া। প্রবাদে আছে, ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’। সৎ সঙ্গের সুহবাতের মাধ্যমে স্বর্গ তথা জান্নাত লাভ হয়। মানুষের সামাজিকীকরণ হয়। মানুষ মহামানব হয়ে যায়। অসৎ সঙ্গের স্পর্শে সোনালী সম্ভাবনাময় জীবন অংকুরে বিনাশ হয়ে যায়। ফুল ফোটার পূর্বে ঝরে যায়। মানুষ জাহান্নামের পথে পরিচালিত হয়। সুহবাত সম্পর্কে কোরআন পাকে ইরশাদ হচ্ছে, ‘ওয়া কুনু মাআ’স সোয়াদিক্বীন’। (সূরা তাওবা:১১৯)। অর্থ: সত্যবাদীদের সাথী হও।
কোরআন মানুষকে সত্য সুন্দর পথের সন্ধান দিয়েছে। আর এই কোরআনের পথে আমাদের আহবান করেছেন মানবতার নবী খাতামুন নাবিঈন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নবীর ওয়ারিস হলেন ওলী, আউলিয়া এবং হক্কানী আলেম ওলামা, তাদের পথ হলো সত্য ও সুন্দর। তাই তাদের সাথে উঠা বসা চলা ফেরা করার জন্য কোরআনে পাকে তাগিদ এসেছে । প্রতিদিন নামাজের মধ্যেও আমরা বলি " (হে আল্লাহ) তুমি আমাদের সরল-সহজ পথ দেখাও, তাদেরই পথ যাদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছ । (সুরা ফাতেহা: ৫-৬)। আজ এমনই অনুগ্রহপ্রাপ্ত ওলীর একটি শিক্ষনীয় ঘটনা (কারামত) আপানাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব যে ঘটনা পাঠ করলে আমাদের জীবনের আমুল পরিবর্তন হতে পারে।
💜হযরত বায়েজিদ বোস্তামি রহ. এর শহরে একবার এক বিখ্যাত এবং অপরুপ সুন্দরী নর্তকী আসল, তার সাথে রাত যাপন করা ছিল যুবকদের কাছে স্বপ্নের মতো। শহরের যুবকরা তার সাথে রাত যাপন করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ল! প্রতি রাতের জন্য ১০০০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার্য্য করা হলো। শহরের যুবকেরা বৈধ অবৈধ পথে যে যেভাবে সম্ভব টাকা সংগ্রহ করে নর্তকীর সাথে রাত্রিযাপন করার জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু করে দিল!! এই সংবাদ আল্লাহর মাক্ববুল ওলী বায়েজিদ বোস্তামি রহ. এর দরবারে যখন পৌঁছল তখন তিনি খুবই ব্যতিত হলেন! আল্লাহর গজবের ভয়ে কাঁদতে শুরু করলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ এক সন্ধ্যায় তিনি এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে সেই তথাকতিত সুন্দরি নর্তকীর বাড়িতে উপস্থিত । বায়েজিদ বোস্তামিকে দেখে সবাই হতবাক !! একি! এই শহরের বুজুর্গ ব্যক্তি নর্তকীর দরবারে!! বায়েজিদ বোস্তামি রহ. এর কাছে যেহেতু পর্যাপ্ত পরিমান মুদ্রা আছে তাই তার সাথে নর্তকীকে রাত যাপন করা ছাড়া কোন উপায়ও ছিলনা। যাই হোক শেষ পর্যন্ত বায়েজিদ বোস্তামি রহ. নর্তকীর সাথে রাত যাপন করার জন্য কামরায় প্রবেশ করলেন।
বায়েজিদ বোস্তামি রহ. নর্তকীকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি যেহেতু আজ রাতের জন্য আমার সেবিকা তাই তোমার কাছ থেকে আমি যা চাইব তা-ই কি তুমি করবে?
🔅নর্তকী: জী জনাব!
❓বায়েজিদ বোস্তামি: তাহলে যাও ভাল করে গোসল করে পরিস্কার হয়ে আস।
🔅নর্তকী: জি জনাব। (সে গোসল করে আসল)।
❓বায়েজিদ বোস্তামি: তুমি এই সাদা কাপড় পরিধান করে আস। (কিছুক্ষন পর সে পরে আসল)
🔅নর্তকী: এখন আমাকে কি করতে হবে?
❓বায়েজিদ বোস্তামি: আস আমার সাথে জায়নামাযে দাড়াও এবং আমাকে অনুস্মরন কর।
🔅নর্তকী: জি জনাব।
সারা রাত উভয়ে নামায আদায় করলেন এবং আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করলেন। ভোর রাতে নর্তকী বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেল। এদিকে শহরের যুবকরা বায়েজিদ বোস্তামি রহ.কে বেইজ্জত করার জন্য বাইরে অপেক্ষয়মান । বায়েজিদ বোস্তামি রহ. ভোরে যখন নর্তকীকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসলেন তখন সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো!! তারা যখন প্রশ্ন করল সুন্দরি নর্তকী কোথায়? সাদা কাপড়ে আবৃত মহিলা জবাব দিল গত রাতে সে মরে গেছে। সে আর কখনো ফিরে আসবেনা। (সুবহানআল্লাহ) একজন আল্লাহর ওলীর সুহবাতে একজন নর্তকী আলোর সন্ধান পেয়ে গেল।
তথ্যসুত্র: গঠনাটি বর্ণনা করেছেন: মাওলানা কবি রুহুল আমিন খাঁন (দা:বা:) ।