ঈদের রাত পুরস্কারের রাত অবহেলার রাত নয়
প্রতিবছর ঈদ আমাদের মাঝে আনন্দের বার্তা যেমন নিয়ে আসে, তেমনি নিয়ে আসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের মহা সুযোগ। বিশেষত ঈদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতমণ্ডিত। আমরা অনেকেই মনে করি ঈদের রাত আনন্দ ফুর্তির রাত! আসলে এটা আমাদের অজ্ঞতার কারণেই হয়ে থাকে । প্রকৃতপক্ষে ঈদের রাতে জেগে থাকা এবং ইবাদত করার গুরুত্ব, মাহাত্ম্য এবং ফজিলত অনেক! বহু হাদিসে এই রাতের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সেসব হাদিস থেকে এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

প্রতিবছর ঈদ আমাদের মাঝে আনন্দের বার্তা যেমন নিয়ে আসে, তেমনি নিয়ে আসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের মহা সুযোগ। বিশেষত ঈদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতমণ্ডিত। আমরা অনেকেই মনে করি ঈদের রাত আনন্দ ফুর্তির রাত! আসলে এটা আমাদের অজ্ঞতার কারণেই হয়ে থাকে । প্রকৃতপক্ষে ঈদের রাতে জেগে থাকা এবং ইবাদত করার গুরুত্ব, মাহাত্ম্য এবং ফজিলত অনেক! বহু হাদিসে এই রাতের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সেসব হাদিস থেকে এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।
#এক: ঈদের রাত দোয়া কবুলের রাত:
عن عائشة : سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول : يفتح الله الخير في أربع ليال؛ ليلة الأضحى والفطر وليلة النصف من شعبان؛ ينسخ فيها الآجال والأرزاق ويكتب فيها الحاج، وفي ليلة عرفة إلى الأذان
#অর্থ: হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আল্লাহ পাক চারটি বিশেষ রাতে কল্যাণের দরজাসমূহ খুলে রাখেন,
(১): ঈদুল আদ্বহা
(২): ঈদুল ফিতর (শাওয়ালের ১ম তারিখ)।
(৩): শবে বরাত (মধ্যে শাবানের রাত)। এ রাতে মৃতের তালিকা তৈরি হয়, রিযিক নির্ধারিত হয় এবং হজ্জের তালিকা তৈরি হয় ।
(৪): আরাফাতের রাত (৯ জিলহজ্জ দিবাগত রাত) ।
#দুই: যে সব রাতের আমলে জান্নাত ওয়াজিব হয় ঈদুল ফিতরের রাত তাদের অন্যতম;
عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من أحيا الليالي الخمس وجبت له الجنة، ليلة التروية، وليلة عرفة، وليلة النحر ،وَلَيْلَة الْفطر وليلة النصف من شعبان(الترغيب والترهيب، ١/ ٢٤٨)
#অর্থ: হজরত মুআজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ রাত জেগে থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। সেই পাঁচটি রাত হলো:
(১): জিলহজ মাসের আট তারিখের রাত।
(২): জিলহজের ৯ তারিখের রাত।
(৩): ঈদুল আদ্বহার রাত।
(৪): ঈদুল ফিতরের রাত।
(৫): ১৫ (মধ্যে) শাবানের রাত।
#তিন: যে রাতসমূহের দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেয়া হয়না ঈদুল ফিতরের রাত তাদের অন্যতম:
عنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَمْسُ لَيَالٍ لا تُرَدُّ فِيهِنَّ الدَّعْوَةُ: أَوَلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ، وَلَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَلَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، وَلَيْلَةُ الْفِطْرِ، وَلَيْلَةُ النَّحْرِ. (الديلمي في مسند الفردوس ١٩٦/٢. ابن عساكر في تاريخ دمشق ٤٠٨/١٠)
#অর্থ: হজরত আবি উমামাতাল বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এমন পাঁচটি রাত আছে, যে রাতে কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। রাতগুলো হলো:
(১): রজব মাসের প্রথম রাত।
(২): শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত।
(৩): জুমআর রাত ।
(৪): ঈদুল ফিতরের রাত।
(৫): ঈদুল আদ্বহার রাত।
(দাইলামী: মসনদে ফিরদাউস)।
#চার: ঈদের রাতে ইবাদতকারীর অন্তর সব সময় সজীব ও সতেজ থাকবে:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ (ابن ماجه، بَاب فِيمَنْ قَامَ فِي لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ)
#অর্থ: আবূ উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি দু’ ঈদের রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে ইবাদত করবে তার অন্তর ঐ দিন মরবে না, যে দিন অন্তরসমূহ মরে যাবে। (সুনান ইবনে মা'জাহ: ১/১৭৮২)।
#হাদিসের_মর্মার্থ: ঈদের রাতের ইবাদতকারীর অন্তর মরবে না বলতে; কিয়ামতে ভয়াবহ তাণ্ডবের সময় প্রতিটি মানুষের অন্তর যখন হাশরের ময়দানে ভয় আশঙ্কা অস্থিরতায় মৃতপ্রায় হয়ে থাকবে। মানুষের হুশ-জ্ঞান বলতে থাকবে না কিছুই। ঈদের রাতে আমলকারীর হৃদয় তখনও সজীব ও সতেজ থাকবে। সেদিন তার অন্তর মরবেনা, বরং থাকবে সদা প্রফুল্ল।
বর্ণিত হাদিসগুলোয় আমরা বুঝতে পারি ঈদের রাত হলো গুরুত্বপূর্ণ রাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। ওপরে বর্ণিত হাদিসগুলো ছাড়াও আরও অসংখ্য হাদিসে ঈদের রাতে ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে।
(১): এ রাতের প্রথম আমল হলো চাঁদ দেখা। চাঁদ দেখলে বা চাঁদ দেখার সংবাদ নিশ্চিত হলে দোয়া পড়া।
اللَّهُمَّ أَهْلِلْهُ عَلَيْنَا بِالْيُمْنِ وَالإِيمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالإِسْلاَمِ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ " (الترمذي:٣٤٥١)
#অর্থ: ‘হে আল্লাহ! এই মাসকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ইমান, প্রশান্তি ও ইসলাম সহযোগে আনয়ন করুন; আমার ও তোমার প্রভু আল্লাহ। এই মাস সুপথ ও কল্যাণের।’ (তিরমিজি: ৩৪৫১, মুসনাদে আহমাদ: ১৪০০, রিয়াদুস সালেহিন: ১২৩৬)।
(২):
(ক): মাগরিব, এশা ও ফজর নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ার চেষ্টা করা ।
(খ): রাতের ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে পবিত্রতা অর্জন করা; সম্ভব হলে গোসল করা। ইবাদতের উপযোগী ভালো কাপড় পরিধান করা। সুগন্ধি ব্যবহার করা।
(গ): মাগরিবের পর আউয়্যাবিন নামাজ পড়া
(ঘ): শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।
(ঙ): রাতের শেষ ভাগে জেগে নফল ইবাদত করা। নফল নামাজ যথা তাহ্যিয়াতুল অজু, সালাতুত্ তাওবাহ , সলাতুল হাজাত, সলাতুত তাসবিহ ইত্যাদি পড়া।
(চ): কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করা
(জ): দরুদ শরিফ পাঠ করা,
(ঝ): বেশি বেশি ইস্তিগফার করা
(ঞ): তাসবিহ তাহলিল, জিকির-আজকার ইত্যাদিতে মশগুল থাকা।
তাই আমরা আমাদের ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গে ঈদের রাতে আল্লাহতা'লার কাছে আমাদের প্রয়োজনগুলো চাইতে পারি। আল্লাহতা'লার কাছে ক্ষমা কামনা, কবরের আজাব, জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চেয়ে কায়মনোবাক্যে দু'চোখের পানি ফেলে দোয়া করতে পারি। সাথে সাথে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ এবং মঙ্গল চেয়ে দোয়া করতে পারি। পরদিন সকালে একেবারে নিষ্পাপ মাসুম শিশুর মতো পবিত্র ঈদের মাঠে আল্লাহর পুরস্কার গ্রহণ এবং প্রতিদান লাভের জন্য দোয়া করতে পারি । ঈদের রাতের মতো শ্রেষ্ঠ সুযোগ অন্য কোনো রাতে আছে কি? তাই অবহেলা করে ঈদের রাতের প্রাপ্তি থেকে আমরা যেন বঞ্চিত না হই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন
-এম এ বাসিত আশরাফ।




