ইশরাক, চাশত, আউয়াবীন ও তাহাজ্জুদ নামাজ
ইশরাক, চাশত, আউয়াবীন, তাহাজ্জুদ সুন্নাত না নফল মনে করে পড়তে হবে? এগুলো কখন, কত রাকাত পড়তে হবে? কোন কোন সুরা দ্বারা পড়তে হবে? এগুলোর ফযিলত কতটুকু?

ইশরাক, চাশত, আউয়াবীন, তাহাজ্জুদ সুন্নাত না নফল মনে করে পড়তে হবে? এগুলো কখন, কত রাকাত পড়তে হবে? কোন কোন সুরা দ্বারা পড়তে হবে? এগুলোর ফযিলত কতটুকু?
ইশরাক্ব-
আলমগীরীতে আছে এ নামাজ মুস্তাহাব। মালাবুদ্দা মিনহু, আলমগীরীতে আছে এ নামাজ ২/৪ রাকাত পড়তে হয়। সুর্য উদয়ের কিছুক্ষণ পরেই এই নামাজ পড়ার সময়। শামী কিতাবে আছে- সুর্য এক নেজা/ দুই নেজা উর্দ্ধে উঠলে পড়বে। এক নেজার পরিমান সম্বন্ধে হাশিয়ায়ে তাহতাভীর ঈদের বয়ান হতে শামী কিতাবে ১২ বিঘত অর্থাত ৬ হাত লিখেছেন।
মালাবুদ্দা মিনহু তে আছে- ফজরের নামাজের পর দুয়া দুরুদ, যিকির আযকার ইত্যাদিতে লিপ্ত থেকে কথাবার্তা না বলে সুর্য উদয়ের পর ২/৪ রাকাত নামাজ পড়লে তার আমল নামায় এক হজ্ব ও উমরার পুর্ণ সাওয়াব লিখা হবে। চার রাকাত পড়লে সমস্ত দিন সে আল্লাহর মদদে থাকবে। এ নামাজে ফাতেহার সাথে যেকোনও সুরা পড়া যায়।
চাশত-
ইহাও মুস্তাহাব। (আলমগীরী) দুররুল মুখতারে আছে- যখন সুর্য এক প্রহরের উপরে উঠবে, তখন চাশত পড়বে। মুনিয়া কিতাবের মর্মে জানা যায়, নিম্নে দুই রাকাত, মধ্যম ৮ রাকাত ও উর্দ্ধে ১২ রাকাত পড়তে পারে। মারাক্বিউল ফালাহ কিতাবে আছে- ২০ রাকাত নামাজ পড়লে তাকে আলস্যহীন ব্যক্তির মধ্যে গণ্য করা হবে। চার রাকাত পড়লে আবেদীন গনের মধ্যে গণ্য হবে। ৬ রাকাত পড়লে সারাদিন এবাদতের মধ্যে গন্য হবে। ৮ রাকাত পড়লে আল্লাহর আদেশ মান্যকারী হিসেবে গন্য হবে। ১২ রাকাত পড়লে আল্লাহ পাক তার জন্য জান্নাতে বিশেষ কামরা নির্মান করে রাখবেন।
মালাবুদ্দার হাশিয়াতে আছে,তার জন্য সোনার ঘর নির্মান করা হবে। এ নামাজেও ফাতেহার সাথে যেকোনও সুরা পড়া যায়।
আউয়াবীনঃ
'নুরুল ইজ্বাহ' তে আছে, মাগরীবের পর নামাজের পরই ৬ রাকাত আউয়াবীন পড়তে হয়। ইহাই আউয়াবীন। জামেউর রমু কিতাবে আছে,যদি তিন সালামে ঐ নামাজ পড়ে এবং এতে দুনিয়াবী কথাবার্ত০ না বলে, তবে তার ১২ বছরের ইবাদতের সাওয়াব হবে। মারাক্বিউ ফালাহ তে আছে, মাগরিবের নামাজ পর যে ২০ রাকাতরর পড়বে, তার জন্য জান্নাতে বিশেষ কামরাঅবে নির্মাণ ক হবে। (তিরমিযি-১/৯০-!২/২৯৮- হাঃ৪৩৫ ইবনে মাজাহ-১/৩৬৯- হাঃ১১৬৯- তাবারানী ফিল আওসাত-১/২৫০- হাঃ৮১৯- শরহুস সুন্নাহ লিল বাগবী-২/১২৬- কানযুল উম্মাল-৭/৩৮৭- হাঃ১৯৪২৫)
তাহাজ্জুদের নামাজঃ
মালাবুদ্দা কিতাব মর্মে জানা যায়, তাহাজ্জুদ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। হুজুর সাঃ কখনও ইহা পরিত্যাগ করেন নাই। যদি কোনও কারনে তরক হতো দিনে ১২ রাকাত কাজ্বা করতেন। গায়াতুল আওতার, আলমগীরী,বাহরুর রায়েক্ব মর্মে জানা যায়, ক্বউলী দলিলে তাহাজ্জুদ মুস্তাব বলে লিখা হয়েছে কিন্তু হুজুর সাঃ সর্বদা আদায় করেছেন বিধায় হুলিয়া কিতাব মর্মে তা সুন্নাত পাওয়া যায়। ঐ ক্বওল অবলম্বনে গায়াতুল আওতার ও শামী কিতাবে সুন্নাত বলে সমর্থন করেছেন। এরই উপরই ফতোয়া।
শামী, আলমগীরী, দুররুল মুখতার, ফাতহুল ক্বাদীর, মাবসুত প্রভৃতি গ্রন্থে পাওয়া যায়, তাহাজ্জুদের উর্ধ সংখ্যা ৮, মধ্যম ৪ এবং নিম্ন ২ রাকাত। মালাবুদ্দা মিনহু কিতাবের মর্মে জানা যায়, উক্ত নামাজ দু দু রাকাত করে পড়বে। প্রত্যেক রাকাতে ফাতেহার পর যেকোনও সুরা/ আয়াত/ সুরা ইখলাস পড়বে। কবিরি কিতাব মর্মে জানা যায়, প্রত্যেক রাকাতে সমান কেরাত পড়বে। প্রত্যেক রাকাত ইখলাস ৩/৫/৭ বার পড়বে কিন্তু সমান বেজোড় হওয়া চাই। ইহা সর্ব সাধারণের জন্য উত্তম।
ফদ্বিলত- শামী কিতাবে আছে, হুজুর সাঃ এরশাদ করেন, রাতে ঘুম থেকে উঠে দু রাকাত নামাজ পড়লে সারারাত তাকে যাকিরীন দের মধ্যে লিখে দিবেন। আল্লাহ পাক রাতের দুই তৃতীয়াংশ চলে যাওয়ার পর বান্দাহকে বলেন, তুমি যা চাইবে তা দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে উঠে এবং পরিবারকে উঠায়, তার প্রতি আল্লাহ পাক রহমত নাযীল করেন।
আশয়াতুল লুমআত গ্রন্থে এসেছে- যারা শেষ রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়েন,তাদের জন্য আল্লাহ পাক জান্নাতে এমনই এক স্বচ্ছ ও মনোরম গৃহ নির্মান করে রেখেছেন, যার মধ্য দিয়ে ভেতর ও বাহির দেখা যায়। হুজুর সাঃ বলেন, দাউদ আঃ শেষ রাতে উঠতেন এবং পরিবার কেও তুলে নামাজ পড়াতেন।
মেশকাতে পাওয়া যায় ,দু ধরনের লোক আশরাফ। ১। যারা ক্বোরআনের হাফিজ। ২। যারা শেষ রাতে জেগে তাহাজ্জুদ পড়ে। আশআতুল লুমআত এ আছে, শয়তান নিদ্রিত অবস্থায় লোকের মাথায় যাদুর তিনটি গিরা স্থাপন করে। তাতে নিদ্রিত ব্যক্তি মনে করে, এখনও রাত অনেক বাকি আছে। যখন বান্দাহ নিদ্রা হতে উঠে আল্লাহর নাম লয়, তখন তার একটি গিরা খুলে যায়। যখন অজু করে তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। যখন কোনও ব্যক্তি শয়তানের যাদুতে নিদ্রায় বিভোর থাকে, তখন শয়তান তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে ও তার দেল অন্ধকারময় থাকে। যে ব্যক্তি শয়তানের যাদু ছিন্ন করতঃ অজু করিয়া তাহাজ্জুদ পড়ে, তখন আরও একটি গিরা খুলে যায় ও তার দেল ছাফ হয় এবং আল্লাহ পাকও তার প্রতি খুশি থাকেন। (ত২/১০১-১০৪)