মুহাররম ও আশুরা: সময়ের আবর্তন ও ইতিহাসের মহাবিপ্লব
সময়ের আবর্তন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়, বরং এটি মহাকালের গর্ভে জাতিসমূহের উত্থান-পতনের এক নির্বাক সাক্ষী। একটি হিজরি বছরের বিদায় এবং নতুন বছরের শুভাগমন প্রতিটি সচেতন মুমিনের হৃদয়ে আত্মজিজ্ঞাসার এক স্পন্দন তৈরি করে। মহান আল্লাহ তাআলা সময়ের এই নিরন্তর ঘূর্ণনকে তাঁর এক নিপুণ নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: إِنَّ فِي اخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ অর্থ: "নিশ্চয়ই রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে এবং আসমান ও জমিনে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তাতে পরহেজগার সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।" (সূরা ইউনুস, ১০:৬)

সময়ের আবর্তন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়, বরং এটি মহাকালের গর্ভে জাতিসমূহের উত্থান-পতনের এক নির্বাক সাক্ষী। একটি হিজরি বছরের বিদায় এবং নতুন বছরের শুভাগমন প্রতিটি সচেতন মুমিনের হৃদয়ে আত্মজিজ্ঞাসার এক স্পন্দন তৈরি করে। মহান আল্লাহ তাআলা সময়ের এই নিরন্তর ঘূর্ণনকে তাঁর এক নিপুণ নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন: আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّ فِي اخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ
অর্থ: "নিশ্চয়ই রাত ও দিনের আবর্তনের মধ্যে এবং আসমান ও জমিনে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তাতে পরহেজগার সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।" (সূরা ইউনুস, ১০:৬)
একজন প্রাজ্ঞ মুমিন সেই, যে সময়ের এই প্রবাহকে পরকালীন পাথেয় সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সেই শাশ্বত বাণী আমাদের মনে রাখা কর্তব্য—
كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَايِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا
অর্থ: মানুষ প্রতিটি দিন তার নিজের সত্তাকে হয় আল্লাহর আনুগত্যের বিনিময়ে মুক্ত করে, নতুবা নাফরমানির অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। (সহীহ মুসলিম: ২২৩)
তাই নতুন বছরের এই সন্ধিক্ষণে আমাদের যাত্রা শুরু হওয়া উচিত আল্লাহর রহমত ও কল্যাণের সন্ধানে।
নতুন চাঁদ দেখে রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দু'আটি পাঠ করতেন:
اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْيُمْنِ وَالْإِيمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللهُ
অর্থ: হে আল্লাহ! এই চাঁদকে আমাদের ওপর বরকত, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। (হে চাঁদ!) আমার ও তোমার রব হচ্ছেন আল্লাহ। (জামে তিরমিযী: ৩৪৫১)
সাহাবায়ে কেরামও বছরের এই সূচনায় বরকতের জন্য প্রার্থনা করতেন:
اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ وَجِوَارٍ مِنَ الشَّيْطَانِ وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمٰنِ
"হে আল্লাহ! এই বছরটিকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলাম এবং শয়তান থেকে সুরক্ষা ও পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টির সাথে অতিবাহিত করার তাওফিক দিন।" (মু‘জামুস সাহাবা: ৩/৫৪৩)
'শাহরুল্লাহ': আল্লাহর মাসের তাৎপর্য
হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মুহাররমকে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ ‘শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেন এই মাসটি আল্লাহর বিশেষ নিসবত বা সম্বন্ধ লাভ করল? এর একটি নিগূঢ় অর্থ হতে পারে—নতুন বছরের সূচনালগ্নেই মুমিন যেন তার সবটুকু মনোযোগ সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু মহান আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ করে। এটি কেবল একটি মাস নয়, বরং মুমিনের জন্য এক প্রকার 'আধ্যাত্মিক হিজরত' বা আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান। কুরআন মাজীদের ভাষায়:
اِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِیْ كِتٰبِ اللهِ یَوْمَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ مِنْهَاۤ اَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذٰلِكَ الدِّیْنُ الْقَیِّمُ فَلَا تَظْلِمُوْا فِیْهِنَّ اَنْفُسَكُم (সূরা তাওবা, ৯:৩৬)
বারোটি মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে আল্লাহ তাআলা বিশেষ ‘হুরুম’ বা সম্মানিত বলে ঘোষণা করেছেন, মুহাররম তার মুকুটের মণি। এই মর্যাদার কারণেই রমজানের ফরজ রোজার পর মুহাররমের নফল রোজাকেই শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসানো হয়েছে। নবী কারীম ﷺ বলেন:
“রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা।” (সহীহ মুসলিম: ১১৬৩)
আশুরা’র পরিচয়:
‘আশুরা’ শব্দটি আরবি সংখ্যা ‘আশারা’ (عشرة) থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘দশ’। এই মূল ধাতু থেকে ‘আশুরা’ অর্থ দাঁড়ায় ‘দশম’। ইসলামি পরিভাষায় ‘আশুরা’ বলতে হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররমের দশম তারিখকে বোঝানো হয়। এই দিনটি মুসলিম বিশ্বে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এক দিনের সিয়াম: রহমতের এক অনন্য সোপান
মুহাররমের দশম তারিখ তথা ‘আশুরা’ মুমিনের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অভাবনীয় ইনাম। এটি গুনাহের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হওয়ার এক মহিমান্বিত সুযোগ। মুহাররমের সবচেয়ে মহিমান্বিত দিন ‘ইয়াওমে আশুরা’—১০ই মুহাররম এর রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারাহ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ
অর্থ: "আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সহীহ মুসলিম: ১১৬২)
স্বাতন্ত্র্য ও পরিচয়: কেন আমরা ৯ ও ১০ তারিখে রোজা রাখি?
ইসলামি শরিয়ত কেবল ইবাদতের শিক্ষা দেয় না, বরং ইবাদতের মধ্যে মুমিনের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন মদিনায় আসলেন, দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখছে। তিনি তাদের সাথে সাদৃশ্য পরিহারের জন্য এবং মুসলিম উম্মাহর আলাদা পরিচয় ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে নির্দেশ দিলেন যেন আমরা ১০ তারিখের সাথে মিলিয়ে ৯ অথবা ১১ তারিখেও রোজা রাখি। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনের শেষ বছরে তামান্না করেছিলেন যে, আগামী বছর বেঁচে থাকলে তিনি অবশ্যই ৯ ও ১০ তারিখ রোজা রাখবেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لَأَصُومَنَّ التَّاسِعَ
অর্থ: “যদি আমি আগামী বছর জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্যই নয় তারিখেও রোজা রাখব।” (সহীহ মুসলিম) (সহীহ মুসলিম: ১১৩৪)
এই স্বকীয়তা আমাদের শেখায় যে, জীবন ও আদর্শের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুমিন হবে আপসহীন এবং স্বতন্ত্র। ইবনে আব্বাস (রা.) বলতেন:
صُومُوا التَّاسِعَ وَالْعَاشِرَ وَخَالِفُوا الْيَهُودَ
(জামে তিরমিযী, হাদীস: ৭৫৫)
আশুরার রোজার নিয়ম:
মুহাররমের ৯ তারিখ ও ১০ তারিখ রোজা রাখা উত্তম। যদি ৯ তারিখে রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে ১০ তারিখ ও ১১ তারিখ রোজা রাখা যেতে পারে। একান্তই যদি দুটি রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে শুধু ১০ তারিখের রোজা রাখলেও এর ফজিলত লাভ করা যাবে। তবে উত্তম হলো ৯, ১০ ও ১১ মুহাররম—মোট তিনটি রোজা রাখা।
ইতিহাসের মহাবিপ্লব: সত্যের জয় ও মিথ্যার সলিল সমাধি
আশুরার ঐতিহাসিক মূল নিহিত রয়েছে নবী মুসা (আ.) ও তাঁর কওমের মুক্তির ঘটনায়। এটি কেবল একটি নিছক প্রাচীন গল্প নয়, বরং এটি ‘রূহানি বিপ্লব’—যেখানে উদ্ধত ফেরাউনের নীল নদের উত্তাল তরঙ্গে সলিল সমাধি ঘটেছিল। ফেরাউনের শক্তি, সম্পদ ও অহংকার যখন আকাশচুম্বী হয়েছিল, তখন মহান আল্লাহ নীল নদকে দ্বিখণ্ডিত করে বনী ইসরাইলকে পথ করে দিয়েছিলেন। আশুরার এই ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, বাহ্যিক সাজসরঞ্জাম ও প্রতাপ যতই প্রবল হোক না কেন, চূড়ান্ত বিজয় সর্বদা সত্য, ইনসাফ ও ঈমানেরই হয়।
মুহাররম মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর নবী ﷺ-এর প্রিয় নাতি হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) কারবালা প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন। ইমাম হুসাইন (রা.) তাঁর রক্ত দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে, বাতিলের সাথে আপস করার চেয়ে মস্তক অবনত না করাই ঈমানের দাবি।
আশুরার প্রসিদ্ধ ঘটনাবলি:
আশুরা, অর্থাৎ মুহাররম মাসের দশম দিন, ইসলামের ইতিহাসে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। ইতিহাস ও তাফসিরের গ্রন্থসমূহে আশুরাকে কেন্দ্র করে বহু নবী-রাসূলের জীবনের মোড় ঘোরানো ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। এখানে প্রসিদ্ধ ঘটনাবলি উল্লেখ করা হলো:
- সৃষ্টি ও কিয়ামত: আল্লাহ তাআলা এই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর ইচ্ছায় এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
- হজরত আদম (আ.): এই দিনে তাঁর দীর্ঘ প্রার্থনা ও তাওবা কবুল করা হয়েছিল।
- হজরত নূহ (আ.): মহাপ্লাবন শেষে তাঁর নৌকা জুদি পাহাড়ে ভিড়েছিল এবং পৃথিবী এক নতুন সূচনার মুখ দেখেছিল।
- হজরত ইব্রাহিম (আ.): নমরুদের প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডের আগুন তাঁর জন্য শীতল উদ্যানে পরিণত হয়েছিল।
- হজরত আইয়ুব (আ.): দীর্ঘ ১৮ বছরের কঠিন ব্যাধি ও পরীক্ষা শেষে তিনি অলৌকিক রোগমুক্তি লাভ করেন।
- হজরত ইউনুস (আ.): গভীর সমুদ্রের অতলে মাছের পেট থেকে আল্লাহর করুণায় মুক্তি লাভ করেন।
- হজরত ঈসা (আ.): ইহুদিদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে আল্লাহ তাঁকে আসমানে তুলে নেন।
- কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা: মুহাররম মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর নবী ﷺ-এর প্রিয় নাতি হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) কারবালা প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন। এটি ইসলামের ইতিহাসে একটি গভীর শোকের দিন।
যদিও আশুরার মূল বিধান ও ঐতিহাসিক নির্ভরযোগ্যতা মুসা (আ.)-এর ঘটনার ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত, তবুও ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি নবীদের সংগ্রামের স্মারক হিসেবে অম্লান হয়ে আছে:এই ঘটনাগুলো ঐতিহাসিক বর্ণনায় প্রসিদ্ধ হলেও, আশুরার আমল বা রোজার প্রধান ভিত্তি হলো মুসা (আ.)-এর মুক্তি এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ।
কারবালার বিপ্লবী চেতনা ও আমাদের আমানত
১০ই মুহাররমের ইতিহাসের আরেকটি রক্তস্নাত অধ্যায় হলো ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত। এটি কোনো সাধারণ ট্র্যাজেডি নয়; বরং এটি ছিল নবুওয়াতের আদর্শকে রাজতন্ত্রের কবলে চলে যাওয়া থেকে রক্ষার এক অসম লড়াই। ইমাম হুসাইন (রা.) তাঁর রক্ত দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে, বাতিলের সাথে আপস করার চেয়ে মস্তক অবনত না করাই ঈমানের দাবি।
কারবালার এই মহান শিক্ষা যেন কেবল মাতম আর আহাজারিতে হারিয়ে না যায়।
আশুরায় আমাদের বর্জনীয়:
বর্তমান সময়ে আশুরাকে কেন্দ্র করে প্রচলিত তাজিয়া মিছিল, বুক চাপড়ানো বা কৃত্রিম শোক প্রকাশ ইসলামের বিশুদ্ধ শিক্ষার পরিপন্থী। আশুরার যেমন অনেক গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি এর অসম্মান করলেও বহু অকল্যাণের আশঙ্কা আছে। অতএব, সকল গর্হিত ও বিদআতি কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। কুরআন আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
فَلَا تَظْلِمُوْا فِیْهِنَّ اَنْفُسَكُم
অর্থাৎ- সম্মানিত মাসগুলোতে তোমরা নিজেদের ওপর জুলুম করো না। (সূরা তাওবা, ৯:৩৬)
শোকের নামে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ বা বিদআতি প্রথা পালন করে এই পবিত্র দিনের পবিত্রতা নষ্ট করা মুমিনের কাজ নয়। বরং কারবালার মূল শিক্ষা হলো- যেকোনো পরিস্থিতিতে হক ও ইনসাফের ওপর অবিচল থাকা।
আশুরায় আমাদের করণীয়:
আশুরার মূল আমল হলো রোজা রাখা, যা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারাহ। আশুরা আমাদের জন্য তাওবা ও ইস্তিগফারের এক পবিত্র বসন্তকাল। হাদীস শরীফে এসেছে, আল্লাহ তাআলা এই দিনে পূর্ববর্তী অনেক কওমের তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। (তিরমিযী: ৭৪১)
আমরা আশুরার রোজা রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি দান-সদকা, তিলাওয়াত এবং দোয়া-মোনাজাত করতে পারি। নতুন বছরে আমাদের প্রথম ও প্রধান আমল হওয়া উচিত ‘সায়্যেদুল ইস্তিগফার’ বা ক্ষমার শ্রেষ্ঠ প্রার্থনার মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা। সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার গোলাম। আমি আমার সাধ্যমতো আপনার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর অবিচল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমার প্রতি আপনার নেয়ামতসমূহ আমি স্বীকার করছি এবং আমি আমার গুনাহসমূহও স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই।" (সহীহ বুখারী: ৬৩০৬)
আসুন, এই নতুন হিজরি সনে আমরা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় না মেতে নিজেকে পরিবর্তনের শপথ নেই। প্রতিটি ক্ষণ যেন আমাদের আখিরাতের পথে এক ধাপ এগিয়ে নেয়। আমাদের সামনের দিনগুলো কি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এক নতুন আত্মিক জাগরণের সূচনা হতে পারে না?